২৮ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গত বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) ও দেশের অন্যান্য প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা “Long March to Dhaka” কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তিন দফা দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের মূল দাবি ছিল: ৯ম গ্রেড (সহকারী প্রকৌশলী বা সমতুল্য) নিয়োগ শুধুমাত্র BSc ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য প্রবেশ পরীক্ষা-সহ; ১০ম গ্রেড (উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমতুল্য) রিসার্ভ কোটা বাতিল করে BSc ও MSc ডিগ্রি ধারকদেরও আবেদন করতে দেয়া; এবং “Engineer” উপাধি শুধুমাত্র BSc ডিগ্রি ধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা—to be enforced legally ।
দুপুরে ১:৩০pm এর দিকে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে মিছিল শুরু করলে, পুলিশ তাদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের নিকট থামায়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামানের ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় । দানা বাধে ছাত্র-ও- পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের; এতে দুই পক্ষেই আহতের ঘটনা ঘটে—শিক্ষার্থীদের দাবি অন্তত ৫০–৬০ জন আহত হয়েছেন, পুলিশ জানিয়েছে দু’পক্ষীয় সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত আটজন আহত, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিকেলে শাহবাগ মোড়ে ফিরে আসেন এবং অবস্থান পুনরায় শুরু করেন। সন্ধ্যায় রেল ভবনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সরকারের দুই উপদেষ্টার মধ্যে একটি প্রতিনিধি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়; সেখানে জানানো হয়, ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে—উপদেষ্টা ফওজুল কবির খানকে সভাপতি করে—তাদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাই ও সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে । কমিটির পুরোদমে উপস্থিত না থাকায়, শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে; পরবর্তী দিন আবার বৈঠক হবে এমন আশ্বাস দেওয়া হয় । ফওজুল কবির এই ঘটনার “অনাকাঙ্ক্ষিত” দাবি করেন এবং জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল একজন প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইবেন ।
BUET প্রশাসন এ পুলিশী আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে, এবং অঘটনের দায়ে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে ।
পরিস্থিতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো – শাহবাগ, বাংলামোটর, ইস্কাটন, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে; সাধারণ মানুষ দিনভর অতিষ্ঠ হয় কারণ সড়ক বন্ধ থাকায় প্রায় অর্ধেক শহর জুড়ে ঢুকছে যানজট ।