২৮ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি’র সঙ্গে একাধিক ইসলামী দল জোট গঠনের চেষ্টা করছে। অন্তত ছয়টি প্রধান ইসলামী দল এই জোটে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ইতিমধ্যেই বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী ফোরামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসলামী দলের ভোট এক বাক্সে আনার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চললেও ভোটের মাঠে সব দল একত্রিত থাকার অবস্থায় নেই, ফলে নির্বাচনী জোটগুলো একাধিক ফ্রন্টে অবস্থান রেখে ভোটে অংশ নিচ্ছে।
ইসলামী দলের ভোট একত্রিত করার উদ্যোগ মূলত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে লক্ষ্য করা যায়। ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সমর্থন যোগিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ, বিশেষ করে জুলাই মাসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে প্রতিফলিত হয়, যেখানে অন্তত ১০টি ইসলামী ও সমমনা দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। মহাসমাবেশে এসব দলের নেতারা আগামী নির্বাচনে সব ইসলামী দলের ভোট এক বাক্সে দেওয়ার অঙ্গীকার জানান।

যদিও কিছু দল, যেমন বিভক্ত বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোটের কিছু অংশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এই দলগুলোর কারোই নিবন্ধন নেই এবং নাম ও প্যাডের দিক থেকে বিভক্ত, তবে বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে পারলে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি’র সঙ্গে জোটের চেষ্টা করছে এমন দলগুলোর নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একেএম আশরাফুল হক ও মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী; ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব ও মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী ও সেক্রেটারি মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কিছু অংশও বিএনপি’র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা রাখছে।
বিএনপির বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে থাকা দলগুলোর মধ্যে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোট উল্লেখযোগ্য। ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের ও মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন স্বতন্ত্র ইসলামী জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিও এই স্বতন্ত্র জোটের পক্ষে আছে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী দলের মধ্যে জোটের পরিকল্পনা দেশীয় রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও সব দল একত্রে নেই, তবুও রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সম্ভাব্য জোটগুলো নির্বাচনী মাঠে ভোটের ধরন ও ফলাফলের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।