প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে যাচ্ছে ‘গুমবিরোধী দিবস’। এ দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গুমের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান। তিনি বলেন, গুম মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহতম অপরাধ, যার মাধ্যমে কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সাধারণ নাগরিকেরও মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘ ঘোষিত দিনটি ২০১১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। এ দিনে গুমের শিকার অসংখ্য মানুষকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা জানানো হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এমন এক অসহনীয় যন্ত্রণা যা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ অনুভব করতে পারে না। অনেক পরিবার বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে মানসিক ট্রমায় ভুগছেন, কেউ কেউ আর্থিক ও সামাজিক সংকটে চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরশাসিত দেশের মতো বাংলাদেশেও গুম একটি আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সাত শতাধিক মানুষ গুম হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী কণ্ঠরোধ করতে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি চরম অবজ্ঞা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে আসা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেমের ঘটনা প্রমাণ করে যে, গুমকৃতদের ভাগ্যে কী ঘটছে তা প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হলে জাতি বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে পারবে। কিন্তু এখনো জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য মানুষ অদৃশ্য অবস্থায় রয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলছে, গুম হওয়া প্রতিটি মানুষকে অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দলটি মনে করে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকারের সুরক্ষার জন্য এ দাবিগুলো পূরণ অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও গুমের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, গুমের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।