প্রকৌশল পেশায় রেষারেষি নয়, সমঝোতাই  সমাধান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৯ বার
প্রকৌশল পেশায় রেষারেষি নয়, সমঝোতাই সমাধান

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সারা দেশের ছাত্র প্রকৌশলীরা গত বুধবার শাহবাগে তিন দফা দাবিতে জমায়েত হয়েছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা বাতিল করা এবং প্রকৌশলী পদ ও পদবি শুধুমাত্র স্নাতক প্রকৌশলীদের জন্য সীমিত রাখা। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ খুবই সীমিত। দেশের প্রকৌশল খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে প্রশাসনের উচিত ছিল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসা। কিন্তু পুলিশ অকারণে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলায়, বিষয়টি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, প্রকৌশলে ডিপ্লোমাধারীরাও নিজেদের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন। তারা তাদেরকে প্রকৌশলী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় এবং প্রাপ্য পদগুলোতে বৃদ্ধি চাইছে। কিছু দাবিই স্বার্থগত দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং পেশাগত রেষারেষি থেকেই এই মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাস্তবতায় স্নাতক প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমাধারীর দাবিগুলো প্রকৌশল খাতের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Image

দেশের শিল্পায়ন ও উন্নয়নে প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমাধারীদের সমন্বিত কাজ অপরিহার্য। প্রকৌশলীদের কাজ প্রকৌশলীদেরই করতে হবে, তেমনি ডিপ্লোমাধারীদের কাজও তাদের দায়িত্বে থাকা উচিত। দুই দলের কাজ পরিপূরক হওয়ায় রেষারেষি নয়, বরং সুষম বণ্টনের মাধ্যমে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব। উভয় পক্ষের উচিত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং একসঙ্গে কাজ করে প্রকৌশল খাতকে সমৃদ্ধ করা।

প্রকৌশলী পদটি কোনো বংশগত নয়। উন্নত বিশ্বে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও প্রফেশনাল পরীক্ষা পাস করলেই একজন প্রকৌশলী হিসেবে স্বীকৃতি পান। প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স হারান এবং পদবি ব্যবহার করতে পারেন না। তাই সরকারের উচিত সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই প্রকৌশলী পদে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা।

বর্তমানে স্নাতক প্রকৌশলীদের এন্ট্রি পদ নবম গ্রেড, আর ডিপ্লোমাধারীদের ১০ গ্রেড। আগের স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে নবম গ্রেডের ৩৩ শতাংশ পদ ডিপ্লোমাধারীদের দেওয়া হতো। কিছু জায়গায় এই অনুপাত তার চেয়েও বেশি। ফলে স্নাতক প্রকৌশলীদের প্রবেশসংখ্যা সীমিত হচ্ছে এবং ডিপ্লোমাধারীরা এমন পদে প্রমোশন পাচ্ছেন যেখানে স্নাতক প্রকৌশলীরাও যোগ্য। এটি স্নাতক প্রকৌশলীদের জন্য বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

ডিপ্লোমাধারীদের কর্মক্ষেত্র আলাদা, তাই তাদের জন্য স্বতন্ত্র ক্যাডার চালু করা জরুরি। এতে দুই দলের কাজ এবং দায়িত্ব স্পষ্ট হবে, রেষারেষি কমবে এবং কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পেশাগত প্রশিক্ষণ, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সের মাধ্যমে দুই ধরনের প্রকৌশলীর দক্ষতা হালনাগাদ রাখতে হবে।

প্রকৌশল সংস্থাগুলোর ব্যবস্থাপনা সংকট প্রকট। প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা কর্মকর্তারা প্রকৌশলীদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে দক্ষ নয়। তাই স্বতন্ত্র প্রকৌশল প্রশাসন ক্যাডার তৈরি করে দেশের প্রকৌশল খাতে উন্নত নেতৃত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত হবে।

Image

ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত রাখাও অনুচিত। পলিটেকনিকে ভর্তি হলে প্রথম দুই বছরে কারিগরি বোর্ডের আওতায় উচ্চমাধ্যমিক সনদ দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। ডিপ্লোমাধারীরা দুই বা তিন বছরে শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারেন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে দুই বছরে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন।

সবশেষে, প্রকৌশল খাতে উভয় পক্ষের জন্য নিয়মিত পেশাগত উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। এতে তারা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও নীতিমালা সম্পর্কে হালনাগাদ থাকবেন এবং সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত