প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে দলীয় ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও অসংখ্য কর্মী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সমাধিস্থলে হাজারো নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটে এবং সমাবেশস্থল ‘জিয়াউর রহমান চত্বর’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশের পর এবার তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পায় দলটি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জন্ম নেওয়া বিএনপি দেশের রাজনীতিতে একাধিকবার ক্ষমতায় থেকেছে এবং বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছে। প্রায় সাড়ে চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, আবার কখনো স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে বিগত দেড় যুগে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত ছিল মূলত রাজপথের আন্দোলনে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি, মিছিল, মহাসমাবেশ ও গণআন্দোলন পরিচালনা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন এক মোড় নেয়। সরকার পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন দমনপীড়নের মুখে থাকা বিএনপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পেয়েছে। ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক নতুন সূচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলীয় নেতারা জানান, বিএনপি জনগণের দল, এই দল সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তারা বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং বিএনপি সে অধ্যায়ের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে সারা দেশে নানা আয়োজনও হয়েছে। দলীয় কার্যালয়গুলোতে আলো ও বেলুনে সাজসজ্জা করা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির সামনে এখন একটি বড় সুযোগ এসেছে নিজেদের পুনর্গঠিত করার এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। তবে এর পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও রয়েছে—দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন প্রেক্ষাপটে মানিয়ে নেওয়া।