গাজায় তীব্র হামলা, ত্রাণকর্মীসহ ১৭ জনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
গাজায় তীব্র হামলা, ত্রাণকর্মীসহ ১৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে। একই সঙ্গে হামলায় আহত হয়েছেন অনেকে, যার মধ্যে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার একদিনে ইসরাইলি হামলায় গাজা উপত্যকায় ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভীতিকর রূপ ধারণ করছে। বিশেষ করে গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরে এক গর্ভবতী নারী এবং তার অপ্রাপ্ত সন্তান ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

গাজা সিটি ও তার আশপাশের এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। হামলার জেরে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গাজায় নিরাপদ কোনো স্থান অবশিষ্ট নেই।

গাজা সিটির উত্তরের আবু ইসকান্দার ও জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে।

দখলকৃত পশ্চিম তীরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে একটি অ্যাম্বুলেন্সে গুলি চালানো হয়, যার ফলে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এই হামলাকে গুরুতর মানবিক সংকটের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৬৩,৫৫৭ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৬০,৬৬০ জন ফিলিস্তিনি। সাম্প্রতিক দফার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ এ অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সংঘাতের কারণে গাজার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রাণের ঝুঁকিতে রয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম সীমিত ও নিরাপদে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোও পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এক তীব্র চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতি চাওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত