রাজধানীর পল্টনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার
রাজধানীর পল্টনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর পল্টনে বুধবার বিকেলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় গণঅধিকার পরিষদের ডাকা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগ জোটভুক্ত ১৪টি দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় বিজয়নগর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে এসে সড়ক অবরোধ করেন। তিন দফা দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচির ফলে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চারপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও এ পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। বরং হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী দোসর ১৪টি দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে, হামলার জন্য দায়ী পুলিশ ও সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। এসব দাবিই আজকের এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

অবরোধ চলাকালে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। এতে অংশ নেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সড়কে অবস্থানের কারণে অফিসফেরত হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। পল্টন, প্রেসক্লাব, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

অন্যদিকে, পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের আন্দোলন-অবরোধ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। গণঅধিকার পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় আন্দোলন তীব্র হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শাসক দল ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, গণঅধিকার পরিষদের দাবিগুলোকে তারা ‘অযৌক্তিক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছে।

অবরোধ কর্মসূচি সন্ধ্যার পরও চলতে থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। পল্টন এলাকায় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করতে বাধ্য হন। যাত্রীরা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে চেষ্টা করেন, কিন্তু রাজধানীর কেন্দ্রে এমন অবস্থান কর্মসূচি শহরের সার্বিক যানচলাচলে প্রভাব ফেলে।

গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যাবে। এতে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত