প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর কুড়িলে টানা চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখলেন পোশাক শ্রমিকরা। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল প্রায় চারটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও যানজট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।
গুলশান ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিয়াউর রহমান জিয়া জানিয়েছেন, দুপুর ১২টার দিকে ইউরোজোন ফ্যাশন নামের একটি পোশাক কারখানার প্রায় ৫০০ শ্রমিক তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার অভিযোগে হঠাৎ করেই কুড়িল বিশ্বরোডের সড়ক অবরোধ করে বসেন। তারা সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন, ফলে দুই লেনেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে শুধু কুড়িল নয়, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে বিজয় সরণি, মহাখালী, রামপুরা, মালিবাগ পর্যন্ত যান চলাচলে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। একদিকে অফিসগামী ও স্কুলছাত্রছাত্রীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা দেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন। শ্রমিকরা দাবি করেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন এবং অবিলম্বে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সময়মতো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। এ অবস্থায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে অবরোধের পথ বেছে নিয়েছেন।
ট্রাফিক পুলিশ জানায়, এত দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকার কারণে রাজধানীর যানবাহনের চাপ একসঙ্গে কুড়িল এলাকায় এসে জমে গেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে রাত পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পোশাক খাতের এ ধরনের আন্দোলন শুধু অর্থনীতিতেই নয়, রাজধানীর জনজীবনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের শ্রমিকরা যদি নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা শিল্পখাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে এবং এর প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ওপরও।
শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি দ্রুত পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এতে রাজধানীর জনজীবন আবারও অচল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।