প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেছেন, মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে নয়, আসমানেই হয়। তার এই বক্তব্য ঘিরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশের পর তিনি এ ধরনের প্রতিক্রিয়া জানালেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ নামের এই জমিন যতদিন থাকবে, দখলদারদের আগ্রাসনও ততদিন চলবে। তাই কেয়ামত পর্যন্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সার্বভৌম এ মাটির সন্তানদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমাদের হত্যা করে এ সংগ্রামকে কখনো স্তব্ধ করা যাবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন আবরারকে হত্যা করলে লক্ষ আবরার জন্ম নেবে, এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অব্যাহত থাকবে।
ওসমান হাদি তার স্ট্যাটাসে নিরাপত্তার বিষয়েও ইঙ্গিত দেন। তিনি লেখেন, “অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমাদের কাজ যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মাতৃভূমির এই মাটিকে আমরা মদিনার মতো ভালোবাসি। ষড়যন্ত্রকারীদের হামলা কিংবা হত্যার ভয় দেখিয়ে আমাদের দমানো যাবে না।” তিনি আল্লাহর প্রতি দোয়া জানিয়ে বলেন, সাহস ও ন্যায়বিচারের শক্তি দান করে ভীরুতা থেকে মুক্তি দিন।
তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে শাহাদাত ও আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ। তিনি লিখেছেন, “মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর হতে পৃথিবীতে পা রেখেছি। তাই লড়াই চলবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই সমর্থকরা নানা মন্তব্যে তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি জানান। অনেকে এটিকে প্রেরণাদায়ক ঘোষণা বলে উল্লেখ করেন, আবার কেউ কেউ নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এ ধরনের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক অবস্থানই নয়, বরং চলমান আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির দিকনির্দেশক হিসেবেও কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যাকাণ্ড ও আন্দোলন নিয়ে নানা বিতর্ক চলাকালে ওসমান হাদির এই বার্তাকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি কী ধরনের হুমকি পাচ্ছেন এবং কারা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ওসমান হাদির বক্তব্য ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম নিয়েছে, যা তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি করেছে।