প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জের আটগ্রামের চারিগ্রামে অবস্থিত সাজিদ রাজার প্রাসাদ, স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে তৎকালীন জমিদার সাজিদ রাজা এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞ কারিগর এনে ১৫ একর জমির উপর নির্মিত এই প্রাসাদ তার সৌখিন ও রুচিশীলতার প্রতিফলন ঘটায়।
বর্তমানে মূল প্রাসাদটি ভেঙে পড়েছে এবং শুধু কিছু দেয়ালের অংশই রয়ে গেছে। তবে এটির মধ্যে নির্মিত একটি ১৩ চালের ঘর—যা রাজার বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো—আজও দাঁড়িয়ে আছে। টিনের চাল, কাঠের খুঁটি ও সুদৃশ্য বারান্দা সহ ঘরের নকশা এবং শিল্পশৈলী প্রমাণ করে, এটি তৈরি করতে প্রশিক্ষিত কারিগরের দীর্ঘদিনের শ্রম ও মেধা ব্যয় হয়েছে। তৎকালীন সময়ে ঘরটি নির্মাণে প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।
প্রাসাদের মধ্যে একটি সুদৃশ্য মসজিদও রয়েছে, যা ১৭৪০ সালে নির্মিত। বড় পিলার ও গম্বুজের মাধ্যমে গড়া মসজিদটি এখনও কার্যকর এবং এলাকার মানুষ প্রতিদিন এখানে নামাজ আদায় করেন। এছাড়া প্রাসাদের মধ্যে একটি বিচারালয় ও বিশাল দীঘিও ছিল, যা রাজার প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
সাজিদ রাজা জৈন্তীয়া রাজবাড়ির ইছন রাজার পুত্র ছিলেন। তার সঙ্গে হাছন রাজার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে হাছন রাজা বহুবার সাজিদ রাজার প্রাসাদে বেড়াতে আসতেন। বৈঠকখানায় গান ও সাংস্কৃতিক আসরের আয়োজনও হতো।
জৈন্তীয়া রাজ্যের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। এটি একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল, যার মধ্যে উত্তর-পূর্ব সিলেটের জৈন্তা, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাচীন রাজধানী ছিল খাসিয়া জৈন্তীয়া পাহাড়ের নরতিয়াং, যা ১৬৮০ সালে বর্তমান জৈন্তা উপজেলা সদরের নিজপাটে স্থানান্তরিত হয়।
সাজিদ রাজার প্রাসাদ কালের সাক্ষী হয়ে আজও স্থাপত্যশৈলী, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের প্রমাণ বহন করছে। প্রাসাদটির সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মূল স্থাপত্যের অনেক অংশ বিলুপ্ত হলেও স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে এটি ইতিহাসের এক অমলিন চিহ্ন হিসেবে বিরাজ করছে।