প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দীর্ঘ ৪৭ দিন অসুস্থ থাকার পর অবশেষে জনসম্মুখে ফিরে এলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাফরুল দক্ষিণ থানা আয়োজিত এক বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সামনে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার জন্য এক বিশেষ আশীর্বাদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় পর গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়াতে পারা তার জন্য সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের কল্যাণে কিছু বলার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে, যা অন্য কেউ পূরণ করতে পারবে না। এজন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন যাতে অন্তত জরুরি বার্তাগুলো তিনি জাতির কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
নিজের অসুস্থতার ঘটনা স্মরণ করে জামায়াত আমির জানান, গত ১৯ জুলাই ঢাকায় দলের মহাসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মঞ্চে পড়ে যান। মুহূর্তেই এই দৃশ্য টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, সে সময় ইউনাইটেড হসপিটালের খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মমিনুজ্জামান পরিস্থিতি দেখে ধারণা করেছিলেন যে এটি মস্তিষ্কজনিত নয়, বরং হৃদরোগজনিত জটিলতা হতে পারে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা করানো হয়।
এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ২২ জন চিকিৎসক সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তারা হৃদযন্ত্রে ব্লক শনাক্ত করেন এবং ঝুঁকি বিবেচনায় বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক বা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার কথা বলা হলেও ডা. শফিকুর রহমান সিদ্ধান্ত নেন দেশে থেকেই চিকিৎসা করাবেন। তার ভাষায়, “আল্লাহ সর্বত্র আছেন, তিনি চাইলে বাংলাদেশেই আমাকে সুস্থ করতে পারেন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুস্থতা বা অসুস্থতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। তাই তার বিশ্বাস, মহান সৃষ্টিকর্তাই তাকে আবার জনসম্মুখে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছেন।
সমাবেশের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তার রক্তচাপ, গ্লুকোজ ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে, মস্তিষ্কেও কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর আবার জনসম্মুখে ফেরায় দলের ভেতরে স্বস্তি ফিরেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে সুস্থ অবস্থায় জনগণের সামনে দেখতে পাওয়া কর্মী ও সমর্থকদের জন্য আশার বার্তা বহন করছে।