প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শেষে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে বিপুল অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিলাসবহুল ২২৬টি ফ্ল্যাট ক্রয় ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সিআইডির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘ তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে সাইফুজ্জামান চৌধুরী (৫৬) ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান (৪৬) সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন যে, দুবাইয়ে সম্পদ অর্জনের বিপুল প্রমাণ হাতে পেয়েছে তদন্ত দল।
তদন্তে জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ের আল বারশা সাউথ, থানিয়া, জাদ্দাফ, বুর্জ খলিফা, জাবাল আলি, ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ড, মার্শা দুবাইসহ মর্যাদাপূর্ণ এলাকায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী বিভিন্ন দামের মোট ২২৬টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এসব সম্পত্তির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের নামে ‘কিউ গার্ডেন্স বুটিক রেসিডেন্স-ব্লক বি’ নামে দুটি সম্পত্তিরও খোঁজ পেয়েছে সিআইডি।
শুধু সম্পত্তিই নয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার ঘনিষ্ঠদের নামে দুবাই ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী অনুমোদনবিহীন এবং বেআইনি বলে চিহ্নিত। সরকারের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে কোম্পানি নিবন্ধন, বিনিয়োগ ও সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে তিনি এই বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইউনাইটেড ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তিনবারের সভাপতি ছিলেন।
সিআইডি বলছে, এসব কার্যক্রম মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে এবং এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। এই মামলার মাধ্যমে দেশের অন্যতম আলোচিত অর্থপাচার কেলেঙ্কারির পর্দা উন্মোচিত হলো।