প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কক্সবাজার শহরে বাঁকখালী নদীর জায়গা উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা অচল হয়ে যায়। যদিও সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনো চাপা উত্তেজনা বিদ্যমান।
শুক্রবার সকাল ৯টার পর থেকে শহরের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের হাজারো বাসিন্দা গুমগাছতলার বিমানবন্দর সড়কের দিকে জমায়েত হতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর। বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকতাদের ঘিরে রাখে। তারা দাবি করেন, নদীর জায়গা উদ্ধারের নামে তাদের বৈধভাবে পাওয়া ভিটেমাটি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
নুনিয়ার ছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, “নদীর জন্য আমরা জায়গা ছাড়তে রাজি, কিন্তু আমাদের জমির সমস্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নিয়ম এবং আইনের তোয়াক্কা না করে গণ উচ্ছেদ করা হচ্ছে। জীবন দিতে রাজি, তবু ঘর ছাড়ব না।”
উচ্ছেদ আতঙ্কে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করতে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল দুপুরে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “হাইকোর্টের রায় আমরা মানি, তবে রায়ে কি বলা হয়েছে তা পরিষ্কার হতে হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রশাসন আগে নদীর সীমানা নির্ধারণ করুক, পুনর্বাসন ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।”
এ সময় গণমাধ্যমের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক একে এম আরিফ উদ্দিন।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে এ পর্যন্ত চার শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং অন্তত ৫৮ একর এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে। অভিযানের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার কস্তুরাঘাট এলাকায় উচ্ছেদ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৯ জনকে উল্লেখ করে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তৃতীয় দিনে পেশকার পাড়ায় স্থানীয়দের বাধার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ওই ঘটনায় ১১ জনকে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪ শত জনকে আসামী করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কক্সবাজার নৌ বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মো. আবদুল ওয়াকিল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এক সপ্তাহ পর, ৩০ আগস্ট, নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন কক্সবাজার সফরে এসে সমন্বয় সভায় হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ ও তালিকা প্রস্তুতির নির্দেশ দেন।
স্থানীয়রা যদিও নদীর স্বাভাবিক সীমানা রক্ষার ক্ষেত্রে সমর্থন জানাচ্ছে, তবু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া জোরপূর্বক উচ্ছেদ মানবিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জেলা প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।