অদৃশ্য শ্রমে নারীর অবদান: ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার সমমূল্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার
অদৃশ্য শ্রমে নারীর অবদান: ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার সমমূল্য

প্রকাশ:০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশে নারীরা ঘরে বসে যে অদৃশ্য শ্রম করে চলেছেন, তার আর্থিক হিসাব প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এই অদৃশ্য শ্রমের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭ ট্রিলিয়ন টাকা বা ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান। এই অবদানের ৮৫ শতাংশই এসেছে নারীদের কাছ থেকে, যা নারীর অদেখা পরিশ্রমের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে প্রকাশিত “হাউসহোল্ড প্রোডাকশন স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট” প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। রান্না, কাপড় ধোয়া, ঘরদোর পরিষ্কার রাখা, শিশু, বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ সদস্যের যত্ন নেওয়ার মতো কাজ এতদিন অর্থনীতির খাতায় ধরা পড়েনি। অথচ সমাজ ও পরিবার টিকিয়ে রাখতে এসব শ্রম অপরিহার্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সময় ব্যবহার জরিপ ২০২১ ও শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই বিশাল হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুর্শিদ বলেন, “নারীর শ্রম দীর্ঘদিন ধরে অদৃশ্য ছিল। আজকের এই প্রতিবেদন সেই অমূল্য অবদানকে সামনে এনেছে।” অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি, পরিসংখ্যান ও তথ্যব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংহ। বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বিবিএসের উপপরিচালক আসমা আখতার জানান, প্রতিদিন গৃহস্থালি কাজে মানুষ কতটা সময় ব্যয় করেন, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি নুবাইরা জেহেন ‘কেয়ার ক্যালকুলেটর’ ব্যবহার করে দেখান, গৃহস্থালি ও যত্নকেন্দ্রিক কাজের হিসাব কীভাবে করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যত্ন খাতকে জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে নীতি প্রণয়ন, বেসরকারি খাতে পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণ, যত্নকেন্দ্রিক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং পুরুষ ও ছেলেদের যত্ন ভাগাভাগিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান পরিসংখ্যানবিদ মাহিন্থান জোসেফ মারিয়াসিংহাম এক ভিডিও বার্তায় এটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবেদন শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং নীতিনির্ধারণে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি। দীর্ঘদিন অবহেলিত নারীর অদৃশ্য শ্রম এখন দৃশ্যমান রূপ পেল, যা দেশের উন্নয়ন কৌশল ও অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত করলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত