প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এদিন সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণকে উপলক্ষ করে খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, “ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইলেকশনের ট্রেনে উঠে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এরপর চলে আসবে জাতীয় নির্বাচনের ট্রেন। সবাইকে নির্বাচন মোবারক।”
ফারুকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ডাকসু নির্বাচনের বিলম্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “যে ভোট রাতেই করে ফেলা যায় সেটা দিন পর্যন্ত রাখা হলো কেনো? সময়ের কাজ সময়ে না করা এই জাতির বড় দুর্বলতা।” একইসঙ্গে তিনি ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা করেন।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৫৯ এবং ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে চলছে ভোটগ্রহণ, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এবার ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, পাশাপাশি হল সংসদ নির্বাচনের ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৩৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে একজন ভোটারকে সর্বমোট ৪১টি ভোট দিতে হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে অন্তত ১০টি পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), সাতটি বাম সংগঠনের জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন প্যানেল মাঠে নেমেছে। এছাড়া স্বাধীন প্রার্থীরাও রয়েছে ভোটের লড়াইয়ে।
প্রার্থীদের মধ্যে আলোচিত কয়েকজন হলেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ও এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ। ছাত্রশিবির তাদের প্যানেল থেকে ভিপি পদে দিয়েছে আবু সাদিক কায়েমকে এবং জিএস পদে এস এম ফরহাদকে। অন্যদিকে বাম সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ পর্ষদ ভিপি প্রার্থী করেছে শেখ তাসনীম আফরোজ ইমিকে এবং জিএস প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন মেঘমল্লার বসু।
বাগছাস তাদের ভিপি প্রার্থী করেছে আব্দুল কাদেরকে, এজিএস প্রার্থী আবু বাকের মজমুদার এবং আশরেফা খাতুনকে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উমামা ফাতেমা, যার প্যানেলে আছেন জিএস পদপ্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া এবং এজিএস প্রার্থী জাহেদ আহমদ। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ তাদের ভিপি প্রার্থী করেছে বিন ইয়ামিন মোল্লাকে, জিএস পদে সাবিনা ইয়াসমিন এবং এজিএস পদে রাকিবুল ইসলামকে।
ভোটগ্রহণ শেষে গণনা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনের মাধ্যমে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফলাফল প্রদর্শন করা হবে। সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ফারুকীর মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ এটিকে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার মন্তব্যে বিদ্রূপাত্মক ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ডাকসু নির্বাচন শুধু ক্যাম্পাসের ভোটযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক ধারার প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।