প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে সুষ্ঠু ও উৎসাহী পরিবেশে, এমনটাই জানিয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক খোরশেদুল আলম। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন এবং এর মধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে দুটি বিষয় নিয়ে অভিযোগ এসেছে। একটি হলো নির্বাচনী প্রচারণা কেন্দ্র থেকে ১০০ মিটার ব্যবধানে চলছে। তবে পর্যবেক্ষক খোরশেদুল আলম জানান, প্রার্থীরা কেবল নিজেদের প্যানেলের নাম এবং ভোটারদের জন্য একটি তালিকা শীট বিতরণ করছেন, যা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। তবে যদি প্রার্থীরা ইশতেহার বা অন্য কোনো নির্বাচনী প্রোপাগান্ডা বিতরণ করতেন, তা হলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতো। এছাড়া কিছু কেন্দ্রে অস্থায়ী বুথ তৈরির চেষ্টা করার বিষয়েও অভিযোগ পেয়েছেন তিনি এবং এটি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন নারী এবং ২০ হাজার ৯১৫ জন পুরুষ ভোটার। ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট ২৩৪টি পদের জন্য ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। শিক্ষার্থীদের মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে।
এবারের নির্বাচনে অন্তত ১০টি পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক প্যানেল অংশ নিয়েছে, পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্যানেলগুলোতে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), সাতটি বাম ছাত্র সংগঠন গঠিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য, ছাত্রশিবির, তিন বাম সংগঠনের ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য প্যানেল।
ভোটপ্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিপি পদপ্রার্থীরা হলো আবিদুল ইসলাম খান (ছাত্রদল), আবু সাদিক কায়েম (ছাত্রশিবির), আব্দুল কাদের (বাগছাস), শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি (প্রতিরোধ পর্ষদ), নাইম হাসান হৃদয় (‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’) এবং বিন ইয়ামিন মোল্লা (ছাত্র অধিকার পরিষদ)। জিএস ও এজিএস পদে প্রার্থীরা তাদের সংগঠনের শাখা নেতৃত্ব হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
পর্যবেক্ষক খোরশেদুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভোটের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে নজরদারি বাড়িয়ে রেখেছেন।