প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদিনের উত্তেজনা এবং ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হওয়া গণনার মধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ করল ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর আবহের মধ্যে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবার ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৯১৫ জন পুরুষ এবং ১৮ হাজার ৯৫৯ জন নারী শিক্ষার্থী ভোটার তালিকায় ছিলেন। প্রত্যেক ভোটারকে মোট ৪১টি পদে ভোট প্রদান করতে হয়েছে, যার মধ্যে ডাকসুর ২৮টি পদ এবং প্রতিটি হল সংসদের ১৩টি পদ অন্তর্ভুক্ত।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী, অন্যদিকে ১৮টি হলে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বহুল আলোচিত নির্বাচনের মধ্যেই ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এই সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এবং শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, ভোটগ্রহণ বা গণনা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম, কেন্দ্র দখল কিংবা প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তোলা হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ফলাফল এবং পরবর্তী কৌশল নিয়েও অবস্থান জানাতে পারে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি প্রবেশপথে অবস্থান নিয়েছিল, যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এ অবস্থায় বিকেলের সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে মধুর ক্যান্টিনে বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে মধুর ক্যান্টিন সবসময় বড় রাজনৈতিক ঘোষণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত, তাই এই সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ডাকসু নির্বাচন সবসময়ই জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রতিফলন ফেলে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন শুধু ভোটের পরিবেশ নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলাপের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন চোখ মধুর ক্যান্টিনের দিকে, যেখানে কিছুক্ষণের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে চলেছে।










