বিজয় মিছিল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ শিবির সভাপতির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৮ বার
স্লোগান মুখোমুখি -শিবিরের শুভেচ্ছা, ছাত্রদলের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করার পরও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কর্মীদের বিজয় মিছিল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও।

ফলাফল ঘোষণার সময় ঢাবির প্রবেশপথগুলোতে বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ফলাফল ঘোষণার পরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারত বলে অনেকের আশঙ্কা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে দেশব্যাপী কোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেন।

তার পোস্টে তিনি লেখেন—“আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ মহান। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বিজয়ী হলো। আমরা সারা দেশে কোথাও কোনো বিজয় মিছিল করব না। কেবল মহান রবের নিকট সিজদার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করবো। এই বিজয় আল্লাহর দান, আমরা অহংকারী হবো না, বরং সবার প্রতি উদার ও বিনয়ী থাকবো।” একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী, আমরা থামবো না। প্রিয় মাতৃভূমি হবে সবার বাংলাদেশ।”

অন্যদিকে নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের সাদিক কায়েম সর্বাধিক ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা ভোটগ্রহণ চলাকালে নির্বাচন বর্জন করেন, যদিও তিনি ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট পেয়েছেন। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট এবং প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহিউদ্দিন খানও ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে নির্বাচনের ফলাফল ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভিপি পদে পরাজিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি দাবি করেন, ভোটগ্রহণে নানা অনিয়ম হয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রক্রিয়াটি বয়কট করেন এবং অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ ছিল সুষ্ঠু নয়।

বুধবার ঘোষিত এই ফলাফলের পর ছাত্রশিবির সমর্থিত জোট ঢাবি ক্যাম্পাসে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে শিবির সভাপতির নির্দেশনায় বিজয় মিছিল না হওয়ায় সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। এতে সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

ডাকসুর এই ফলাফলকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির গতিপথ নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত