ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী ফাতিমা তাসনিম জুমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী ফাতিমা তাসনিম জুমা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। এবার মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন তুমুল আলোচিত জুলাই আন্দোলনের মুখ ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৩১ ভোট, যা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে ডাকসুর ইতিহাসে আবারও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে শিবির সমর্থিত প্যানেলের সর্বাত্মক বিজয়। এ নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ শীর্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে তাদের প্রার্থীরা।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে সাদিক কায়েম ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত মো. আবিদুল ইসলাম খান পান ৫ হাজার ৬৫৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পান ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন পান ৩ হাজার ৬৮১ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর বারী হামীম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট, প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসু পান ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার পান ২ হাজার ১৩১ ভোট।

সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহিউদ্দিন খান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পান ৫ হাজার ৬৪ ভোট। তবে ভিপি পদে প্রায় সব হলে শিবির সমর্থিত প্রার্থী সাদিক কায়েম এগিয়ে থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল জগন্নাথ হল। সেখানে তিনি মাত্র ১০টি ভোট পান, যেখানে ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পান ১ হাজার ২৭৬ ভোট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত গভীর হওয়ার পর প্রায় ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৮টি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ৫টি ছাত্রী হলে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৯৫৯ এবং ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৯১৫ জন।

এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফাতিমা তাসনিম জুমার বিজয়কে অনেকে নারী নেতৃত্বের জন্য বড় এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই শিক্ষার্থী এখন ডাকসুতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তার জয় তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, নতুন নেতৃত্বের উত্থান এবং ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত