প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজার ওপর ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার একদিনে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে নয়জন, যারা ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারা গেছেন। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজার বন্দরে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তৈরি একটি অস্থায়ী তাঁবুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। একইসাথে আল-মুখাবারাত এলাকার চারটি বাড়ি এবং গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহর তালবানি মহল্লার একটি বাড়িতেও বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া গাজা সিটির উত্তর-পূর্বে তুফাহের আজ-জারকা এলাকায় বেসামরিক লোকদের ওপর হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার ইসরাইল নতুনভাবে গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার হুমকি দিয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের গাজা সিটির জামাল আবদেল নাসের স্ট্রিটে অবস্থিত একটি উঁচু ভবন এবং আশেপাশের তাঁবুগুলো ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ মানা না হলে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বলে হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। তবে ওই এলাকাকে ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও, বারবার সেই এলাকা বোমা হামলার শিকার হচ্ছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি মন্তব্য করেছেন, গাজায় বর্তমানে কোনো নিরাপদ অঞ্চল নেই। তিনি বলেন, ঘরে-বাইরে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও বেসামরিকদের জন্য নিরাপত্তা নেই এবং নাগরিকদের রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে গাজার সাধারণ জনগণ ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন যাপন করছে। বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নষ্ট হওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রমও সীমিত। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলের এই হামলাকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে নাগরিকদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।