বিএনপির সামনে কঠিন আত্মসমালোচনার সময়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয়: বিএনপির সামনে কঠিন আত্মসমালোচনার সময়

 প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল ছাত্রসংগঠনগুলোর ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলও ভেবেছিল তারা অন্তত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজয় নিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু ফলাফল এসেছে ভিন্নভাবে। ছাত্রদলের পরাজয় শুধু তাদের সংগঠনের জন্য নয়, বিএনপির সামগ্রিক রাজনীতির জন্যও একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। তবে ডাকসুর মতো একটি প্রতীকী নির্বাচনে ছাত্রদল যে ব্যবধানে হেরেছে, তা কেবল নির্বাচনী অংকেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি প্রতিফলিত করছে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থাহীনতা, অতীতের নানা দখলদারি, সহিংসতা ও নেতৃত্ব সংকটের ধারাবাহিকতা। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়েই ছাত্রদল বুঝতে পারেনি, তাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিরূপ মনোভাব কতটা গভীর।

অন্যদিকে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির ঢাকায় আগে কখনো এই পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। এবার তারা কৌশলগতভাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা ‘গুপ্ত সেল’গুলো থেকে তারা বড় সুবিধা পেয়েছে। ছাত্রদল সেই কৌশল রপ্ত করতে পারেনি, বরং অতীতের অভ্যাস অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতাদের ছায়াতলে থেকে পুরোনো ধ্যানধারণার বাইরে বেরোতে ব্যর্থ হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আজ এমন একটি নেতৃত্ব চায়, যারা তাদের হলের সিট বণ্টনে দখল করবে না, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াবে না এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার মোড়কে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছাত্রদলের অতীত ইতিহাসে এসব দাপট এবং অভিযোগ দৃশ্যমান ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রদলের একাংশ যেভাবে প্রভাব খাটিয়েছে, তা আজও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে গেঁথে আছে। এ কারণেই ডাকসুর নির্বাচনে সাধারণ ছাত্ররা বিকল্প খুঁজেছে এবং ছাত্রদলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রশ্ন উঠছে, এরপর বিএনপি ও ছাত্রদলের করণীয় কী? প্রথমত, এই ফলাফলকে মেনে নিয়ে আত্মসমালোচনায় বসতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগের ঝড় তোলা হয়েছে, বাস্তবে তা ফলাফল পাল্টে দেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি ছাত্রদল। বরং অভিযোগের রাজনীতি যত দীর্ঘায়িত হবে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের প্রতি বিরূপতা তত বাড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি সত্যিই ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায়, তবে তাদের সংগঠনে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। কেবল কথায় নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। ছাত্রদলের মতো অঙ্গসংগঠনকে নতুন রূপে সাজানো, অতীতের বিতর্কিত নেতাদের সরিয়ে নতুন প্রজন্মের গ্রহণযোগ্য মুখগুলোকে সামনে আনা—এসব ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

এখানে জামায়াত ও শিবিরের কথাও উঠে আসে। তারা নিজেদের ‘ক্লিন ইমেজ’ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, যদিও অতীতে তাদের কর্মকাণ্ডও দেশের অস্থিরতা বাড়িয়েছে। বিএনপি কখনোই জামায়াতের মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়নি। বরং নানা সময়ে প্রশ্রয় দিয়েছে। এর ফলেই আজ নিজেদের দুর্বলতাকে ঢেকে রাখতে জামায়াত তুলনামূলক পরিষ্কার অবস্থানে দাঁড়াতে পেরেছে।

ডাকসুর নির্বাচন আসলে বিএনপির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা ছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনকে অনেকেই একটি ক্ষুদ্র পরীক্ষাগার হিসেবে দেখেছিলেন। সেখানে ছাত্রদলের ভরাডুবি প্রমাণ করেছে, বিএনপির পুরোনো রাজনীতি এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা এখন আর টেকসই নয়। বড় প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি এখনই নিজেদের শুদ্ধ করার পথে হাঁটবে, নাকি পুরোনো ধ্যানধারণার ঘূর্ণাবর্তে আটকে থেকে আরও পিছিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বার্তা হলো—পুরোনো কায়দা ও দখলদারি রাজনীতি আর গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি যদি জনগণের কাছে নতুন আস্থা তৈরি করতে চায়, তবে তাদের সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, ডাকসুর মতো দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিও তাদের জন্য ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত