জাকসু নির্বাচন: শহীদ তাজউদ্দীন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
জাকসু নির্বাচন: শহীদ তাজউদ্দীন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলে ভোটগ্রহণ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা ও উদ্বেগ। বৃহস্পতিবার বেলা গড়িয়ে যাওয়ার আগেই প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায় এই কেন্দ্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় এই হলে বিপুল সংখ্যক ভোটার থাকায় পরিস্থিতি ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে হঠাৎ করেই ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। ভোটগ্রহণ বন্ধের ঘোষণা আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখার প্রতিশ্রুতির পরও কেন ভোটগ্রহণে এমন বিঘ্ন ঘটছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ব্যালট পেপার নিয়ে জটিলতা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত নির্দেশনার কারণে সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ করা হয়েছিল। যদিও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এটি হয়তো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি অংশ হতে পারে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রটিতে অবস্থান শক্ত করেন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ কমেনি। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের ঘটনার কারণে ভোটের প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং এর ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৃহৎ ভোটকেন্দ্র। এখানে প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী ভোট দেওয়ার কথা। ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটায় তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন, হয়তো পরবর্তীতে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। ছাত্রদল ও বামপন্থি সংগঠনের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিলম্বের কারণে ভোট গ্রহণে বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব ভোটগ্রহণ পুনরায় চালু করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো না এলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং শহীদ তাজউদ্দীন হলে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে। অন্যথায় সার্বিক নির্বাচনের পরিবেশ আরও অস্থির হয়ে পড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত