জাকসু নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার, প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার
জাকসু নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার, প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে কিছু কেন্দ্রের অতিরিক্ত ব্যালট পেপার নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শহীদ সালাম-বরকত হল কেন্দ্রে যেখানে ভোটার সংখ্যা ২৯৯, সেখানে মোট প্রায় ৪০০টি ব্যালট পেপার রাখা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রায় সবকটিতেই লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ১০ থেকে ২০ শতাংশের বেশি অতিরিক্ত ব্যালট পেপার রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা জানান, অতিরিক্ত ব্যালট পেপারের উপস্থিতি ভোট প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার আশঙ্কা তৈরি করছে। তারা মনে করছেন, পৃথিবীর কোনো নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়েনা; সাধারণত সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট আসে। তবু অতিরিক্ত ব্যালট রাখায় সন্দেহ জাগছে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

শহীদ সালাম-বরকত হলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ভোটগ্রহণের গতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ জানান, “আমাদের কাছে কিছু ব্যালট বেশি এসেছে। বিষয়টি প্রার্থী ও নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সও দেখানো হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার সুযোগ নেই।”

আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩৩৩ হলেও প্রায় ৭০টি অতিরিক্ত ব্যালট দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শিবলি নোমান জানান, “অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ ভুল করলে পুনরায় ব্যালট দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত রাখা হয়েছে। এখনও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং অব্যবহৃত ব্যালট ফেরত পাঠানো হবে।”

স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর পোলিং এজেন্ট মেহেদী হাসান বলেন, “যতই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, কেন অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে, প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখা থাকা উচিত।” ভোটার সোহান বলেন, “এখনই কারচুপি বলা যাচ্ছে না, তবে অতিরিক্ত ব্যালট সন্দেহ জাগায়।”

অন্যান্য কেন্দ্রে যেমন মীর মশাররফ হোসেন, তাজউদ্দীন আহমদ, মওলানা ভাসানী ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে একই চিত্র দেখা গেছে। মীর মশাররফ হোসেন হল কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার মুজিবুর রহমান বলেন, “শতভাগ ভোট পড়ে না, তাই নষ্ট হওয়া বা ভুলের জন্য অতিরিক্ত রাখা হয়েছে। ব্যবহার না হলে তা ফেরত যাবে।”

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বলেন, “শুধু অতিরিক্ত ব্যালট নয়, শিবিরসহ অনেক প্রার্থীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটি উদ্বেগজনক। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে আমরা অবশ্যই লড়ব।” সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব মন্তব্য করেন, “শতভাগ ভোটার উপস্থিতি হয় না, অতিরিক্ত ব্যালট রাখা হয়েছে কেন, তা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খো. লুত্ফুল এলাহী বলেন, “অতিরিক্ত ব্যালট কারচুপির উদ্দেশ্যে রাখা হয়নি। দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ার কারণে যারা ভুল করতে পারে, তাদের জন্য নতুন ব্যালট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অব্যবহৃত ব্যালট ফেরত পাঠানো হবে।”

নির্বাচনের এই পরিস্থিতি প্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করছেন, অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই এবং অব্যবহৃত ব্যালট ফেরত পাঠানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত