জাকসুর এজিএস পদে জয়ী কে এই মেঘলা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার
জাকসুর এজিএস পদে জয়ী কে এই মেঘলা

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণা ও শিক্ষার্থী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হলো। শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা শুরু করেন। এ সময় সবচেয়ে চমকপ্রদ দৃশ্যটি দেখা যায় যখন এজিএস (নারী) পদে জয়ী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা–এর নাম ঘোষণা করা হয়। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সিনেট ভবন ‘হিজাব’ স্লোগানে মুখরোচিত হয়ে ওঠে, যা শিক্ষার্থী সমাজে উচ্ছ্বাস এবং সমর্থনের প্রতীক হিসেবে ধরা হলো।

আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী হিসেবে এজিএস (নারী) পদে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৩ হাজার ৪০২ ভোট পেয়েছেন, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের মালিহা নামলাহ-এর ১ হাজার ৮৩৬ ভোট এবং ছাত্রদলের প্রার্থী আঞ্জুমান আরা ইকরা-এর ৭৬৪ ভোটের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট তাদের জয়কে স্পষ্ট করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।

মেঘলা ঢাকার মিরপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী (ব্যাচ-৪)। তিনি ফজিলতুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। মেঘলার শিক্ষাজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন এবং জাবির ধর্ষণ বিরোধী মঞ্চের সক্রিয় সদস্য হিসেবেও পরিচিত। তার এই রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থী সমাজে তাকে পরিচিত এবং সমর্থনযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

একই নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন আব্দুর রশিদ জিতু, যিনি মোট ৩ হাজার ৩৩৪ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব পেয়েছেন ২ হাজার ভোট। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মাজহারুল ইসলাম। এই ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ এবার জাকসু নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয়লাভ করেছে।

সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট সাধারণ সম্পাদক ও দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২০টি পদে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় এসেছে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস)–সমর্থিত প্রার্থীরা দুটি পদে জয়ী হয়েছেন এবং আরও দুটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

জাকসু নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ১১ সেপ্টেম্বর। ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনার পর প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ দেখা গেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মধ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আনন্দ, জাকসুর পুনঃস্থাপনের প্রতীকী গুরুত্ব এবং দীর্ঘ ৩৩ বছরের বিরতি—এই সব মিলিয়ে নির্বাচনটি ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

মেঘলার জয় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নারীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব গ্রহণ এবং ছাত্র সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়া তার প্রমাণ। শিক্ষার্থী সমাজে মেয়েদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা ও নেতৃত্বের বিকাশের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিজয় অনুপ্রেরণার কাজ করে।

এজিএস পদে জয়ী মেঘলা তার নির্বাচনী সফর ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী সমাজে একটি শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। মেঘলা শুধু নির্বাচিত হয়েই থেমে যাননি, বরং তার ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ।

নির্বাচন পরবর্তী সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, ভোটের ন্যায্যতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা জোরদার করেছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য উচ্চ নেতৃত্বের পদে জয়লাভ একটি নতুন বার্তা দিয়েছে যে, শিক্ষার্থী সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব এবং তা স্বীকৃত।

জাকসু নির্বাচনে এই ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও পরিবর্তন করেছে। সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ জয় দলকে শিক্ষার্থী সমাজে প্রভাব বিস্তার ও নীতি নির্ধারণে শক্তিশালী অবস্থান দিয়েছে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলগুলোর অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির বহুমাত্রিকতা বজায় রেখেছে।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাকসু পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা, ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ন্যায়নিষ্ঠা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণে এ ধরনের বিজয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সংক্ষেপে, আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলার জয়, সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ জাকসুর ৩৩ বছরের বিরতি পরবর্তী এই নির্বাচনকে বিশেষ স্মরণীয় করে তুলেছে। এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চা, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নারীর নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

এবারের জাকসু নির্বাচনের ফলাফল শিক্ষা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়িত্বের প্রতীক হিসেবে শিক্ষার্থী সমাজে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত