স্বামী বেকার হলেও সমস্যা নেই, তাকে রাজার মতো রাখতে চাই’: তানিয়া মিত্তাল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৩৪ বার
স্বামী বেকার হলেও সমস্যা নেই, তাকে রাজার মতো রাখতে চাই’: তানিয়া মিত্তাল

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের গোয়ালিয়রের তরুণ উদ্যোক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তানিয়া মিত্তাল আবারও আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া মহাকুম্ভ সফরের একটি ভিডিও তাকে রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত করেছিল। তবে এবার তিনি নতুন করে খবরের শিরোনামে এসেছেন বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানের সঞ্চালনায় চলমান জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১৯’-এ অংশগ্রহণের পর। এ শোতে উপস্থিত হয়ে তানিয়া তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ভারতের গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিগ বসের মঞ্চে হাজির হয়ে তানিয়া দাবি করেছেন, তার রয়েছে ২৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি বিলাসবহুল বাড়ি, যার অধীনে কাজ করছেন প্রায় ৮০০ কর্মী। তার নিরাপত্তার জন্য রয়েছে একাধিক দেহরক্ষী। এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তিনি নিজেকে কোটিপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে এর চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একটি পুরনো সাক্ষাৎকার, যা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পুনরায় ভাইরাল হয়েছে।

নিউস্কুপকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তানিয়া একেবারেই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, “আমি জানি না আদর্শ সঙ্গী আদৌ এই পৃথিবীতে আছেন কিনা। তবে যদি থাকেন, তিনি বেকার হলেও সমস্যা নেই। আমি প্রকাশ্যে তার পা ছুঁতে রাজি। আমার বিশ্বাস, সম্পর্কে বড়-ছোট বলে কিছু নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রেম এবং সম্পর্ককে সামাজিক বা আর্থিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত না করার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন।

তানিয়া নিজেকে ‘হতাশ প্রেমিকা’ আখ্যা দিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো স্মরণ করেন। তিনি ভিডিওতে বলেন, “আমি এমনই ছিলাম যে আমার বয়ফ্রেন্ড খাওয়া শেষ করলে তার হাত মুছিয়ে দেওয়ার জন্য গরম তোয়ালে এনে দিতাম। আমি জানি, বিয়ের পরও আমার স্বামীর ক্ষেত্রেও একইভাবে করব। আমি চাই, তিনি যেন নিজেকে রাজা মনে করেন।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তানিয়ার মানসিকতা, যেখানে প্রেম ও সংসারকে মূলত আন্তরিকতা, স্নেহ এবং সমঝোতার ভিত্তিতে দেখা হয়।

বিয়ে সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিতেও তানিয়া ধনসম্পদের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমার তিনটি কারখানা আছে। আমি এমন কাউকে চাই না, যে আমার জন্য রোজগার করবে। বরং আমি মনে করি, পুরুষরা চায় সংসারে নিশ্চিন্ত থাকতে। তাই আমি রোজগারও করব, আবার স্বামীর জন্য রান্নাও করব।” তার কথায় উঠে আসে সমঅধিকার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ধারণা, যেখানে স্ত্রী শুধু সংসার না চালিয়ে বরং স্বামীকে মানসিক ও দৈনন্দিন সহায়তায় সঙ্গ দেন।

তানিয়া তার সাক্ষাৎকারে নারীবাদের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমি ঘরের সব কাজ জানি। আমার মতে, নারীবাদের নামে আমরা স্বামীদের ছাপিয়ে যেতে শুরু করেছি, যা একদমই ঠিক নয়। দেবী সীতাও তো ভগবান রামের চরণ ছুঁয়েছিলেন।” এখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন, নারী ক্ষমতায়ন মানেই পুরুষকে উপেক্ষা করা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান এবং ঐতিহ্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি।

সাক্ষাৎকারে তানিয়া তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি অধ্যায়ও শেয়ার করেন, যখন তিনি সত্যিই ধনী কাউকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। সে সময় তার সম্পর্ক ছিল এমন একজনের সঙ্গে, যিনি আর্থিকভাবে অনেকটাই সচ্ছল ছিলেন। তানিয়া বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, যদি আমার ব্যবসা না চলে তবে তাকেই বিয়ে করব। কিন্তু এর আগেই তিনি সম্পর্ক ভেঙে দেন। তার মতে, আমি নাকি সুন্দর নই।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তানিয়া নিজের স্বাধীনতা, আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিগত মানসিকতাকে সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি কেবল আর্থিক সুবিধা বা সামাজিক মর্যাদার জন্য সম্পর্ক স্থাপন করেননি।

এই সাক্ষাৎকার এবং ‘বিগ বস ১৯’-এ অংশগ্রহণের ফলে তানিয়া আবারও সোশ্যাল মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তার বক্তব্য, যেখানে প্রেমিক বা স্বামী বেকার হলেও তাকে সম্মান এবং যত্ন সহকারে রাজা মনে করা উচিত, তা অনেক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রাচীন সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন এটি আধুনিক নারীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মেলানো কঠিন।

বিক্রিয়াশীল তরুণ সমাজে তানিয়ার এই মন্তব্যের প্রভাবও স্পষ্ট। বিশেষত তারা যারা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে ফেম এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংকে গুরুত্ব দেন, তারা তার জীবনধারা ও দর্শনকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করছেন। তবে কিছু সমালোচক মনে করছেন, তার বক্তব্য কিছু ক্ষেত্রে প্রথাগত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে, যা সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

তানিয়া মিত্তালের বক্তব্য, যে তিনি স্বামীর আর্থিক অবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না বরং সম্পর্কের মানসিক ও ব্যক্তিগত দিকের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা আধুনিক নারী স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে বিশ্লেষণযোগ্য। তিনি নিজেও একজন উদ্যোক্তা, যার নিজস্ব ব্যবসা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক অবস্থান রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি যে ধরনের স্বামী কামনা করছেন, তা কেবল সামাজিক অবস্থান নয় বরং পারস্পরিক সম্মান, যত্ন এবং সম্পর্কের গভীরতাকে কেন্দ্র করে গঠিত।

‘বিগ বস ১৯’-এর মঞ্চে তানিয়ার এই উক্তি দর্শক, সমালোচক এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্য, যে স্বামী বেকার হলেও তাকে রাজার মতো রাখতে তিনি প্রস্তুত, তা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনা উস্কে দিয়েছে। এটি শুধু এক ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং আধুনিক ভারতীয় তরুণ সমাজের মধ্যে নারী স্বাধীনতা, সম্পর্ক এবং সামাজিক মর্যাদার নতুন মানদণ্ডকে প্রতিফলিত করছে।

তানিয়ার জীবনের এই অধ্যায় এবং ‘বিগ বস ১৯’-এ তার অংশগ্রহণ যে কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক মানসিকতা ও সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট। তার বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো এই তরুণ ইনফ্লুয়েন্সারের জনপ্রিয়তা এবং বিতর্কিত চরিত্রকে আরও দৃঢ় করেছে।

সবশেষে বলা যায়, তানিয়া মিত্তাল কেবল এক উঠতি স্টার নয়, তিনি নতুন প্রজন্মের সামাজিক মনোভাব এবং সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তার মন্তব্য, “স্বামী বেকার হলেও সমস্যা নেই, তাকে রাজার মতো রাখতে চাই”, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি আধুনিক নারীর ক্ষমতায়ন, সম্পর্কের সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানকে কেন্দ্র করে গঠিত একটি দৃষ্টান্তমূলক ধারণা। ভবিষ্যতেও তিনি সামাজিক ও বিনোদনমূলক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন, এবং তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ সমাজকে নানা দিক থেকে প্রভাবিত করতে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত