হিজাব নন-হিজাব কিংবা আধুনিক পোশাক, সবার সমান অধিকার: সাদিক কায়েম

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮০ বার
হিজাব নন-হিজাব কিংবা আধুনিক পোশাক, সবার সমান অধিকার: সাদিক কায়েম

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাদিক কায়েম। ২৮টি পদপ্রার্থী মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্তি তাকে নির্বাচিত করেছে এবং তার এই জয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমাজে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাদিক কায়েমের নির্বাচিত হওয়া কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ক্যাম্পাসে নারীর নিরাপত্তা, অধিকার এবং স্বাধীনতার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে।

সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যে কোনো ধরনের পোশাক পরার অধিকার রাখে। হিজাব, নন-হিজাব বা আধুনিক পোশাক—সব শিক্ষার্থী সমানভাবে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করতে পারবেন। তিনি বলেন, “কেউ যেন অন্যকে হেয় না করে, কোনো প্রতীক বা ব্যক্তিগত পরিচয়কে অপরাধ বা বিতর্কের মাধ্যমে ব্যবহার করা না হয়। হিজাব পরা শিক্ষার্থীর যেমন অধিকার আছে, তেমনি নন-হিজাব বা আধুনিক পোশাক পরা শিক্ষার্থীরও সমান অধিকার রয়েছে।”

সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পোশাকভিত্তিক বৈষম্য এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ বন্ধ করার লক্ষ্যে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব তৈরি করতে হবে। তার মতে, এটি শুধু নারীদের নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।

ডাকসু নির্বাচনে নারীর ভোট বেশি প্রাপ্তির কারণ জানতে চাইলে সাদিক কায়েম বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে। জুলাই বিপ্লবের পর থেকে আমরা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি তা কেবল মুখের কথা নয়। নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা পর্যন্ত আমরা থামব না—এটাই আমাদের স্লোগান।” তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের ইশতেহারে নারীর নিরাপত্তা ও অধিকারকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার জন্য ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান শিগগিরই শুরু হবে। নারীরা যেভাবে নেতৃত্বের জন্য উদগ্রীব, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট সেই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছে এবং সেই কারণে নারীদের ভোটের আস্থা বেশি এসেছে।

সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নারীর অধিকার, তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। তার মতে, ক্যাম্পাসে তথ্যপ্রকাশ ও শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ সচেতনতা বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হবে।

ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের বিজয়ের পর যে আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছিল, স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার বিষয়টি তা সাদিক কায়েম পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মাল্টিকালচারাল প্রতিষ্ঠান, যেখানে স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা সংরক্ষণের বিষয়টি তার প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হবে।

সাদিক কায়েমের মতে, শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পছন্দমত পোশাক নির্বাচন করতে পারেন এবং সেই পোশাকের ভিত্তিতে কাউকে হেয় করা বা কোনো প্রতীককে বিতর্কের মাধ্যমে ব্যবহার করা বন্ধ হয়। তিনি আরও বলেন, “যার যে অধিকার, যে চয়েস, যে রুচি—সে তাই করবে এবং তার স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।” তার এই বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্য, সমানাধিকার এবং সাংস্কৃতিক সংহতির প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সাদিক কায়েমের নির্বাচিত হওয়া কেবল এক রাজনৈতিক জয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা বহন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমাজের জন্য এটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে যে, পোশাক বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে কেউ হেয় বা বঞ্চিত হবে না। এটি নারীর ক্ষমতায়ন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সমান সুযোগের নিশ্চয়তা প্রদানের একটি প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ।

তার নেতৃত্বে আশা করা যাচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি আরও সচেতন হবে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে যে, হিজাব পরা হোক বা আধুনিক পোশাক, সবাই সমানভাবে সম্মান পেতে সক্ষম। এছাড়া, তার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।

সাদিক কায়েমের এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এটি নির্দেশ করছে যে, স্বাধীনতা এবং অধিকার কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সবাইকে সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। তার এই প্রভাব শিক্ষার্থী সমাজে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার আনতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত সাদিক কায়েম তার পদক্ষেপ এবং বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার নেতৃত্বের মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে যে, ক্যাম্পাসে নারীর নিরাপত্তা, অধিকার এবং পোশাকভিত্তিক সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তার এই মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকে আরও উদার, সচেতন এবং সংহত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত