প্রতিটি ভোটারের আস্থা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব: তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৬ বার
১৭ বছর পর নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বলেছেন, “আগামী ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারের আস্থা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমরা দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তর ও পেশার মানুষ পর্যন্ত আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছি।” তিনি উল্লেখ করেছেন, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিএনপি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে চায়।

বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭ হাজারেরও বেশি দলীয় সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসদাচরণের দায়ে অনেককে পদচ্যুত বা বহিষ্কৃত করা হয়েছে। বহুমুখী অপপ্রচারের মাঝেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, তবে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এগুলো ছিল অপরিহার্য। শৃঙ্খলা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং সেটিই আমাদের শক্তি। নিজেদের সদস্যদের দায়বদ্ধ করার মাধ্যমে বিএনপি আবারও প্রমাণ করেছে যে, আমরা সততার ব্যাপারে আন্তরিক এবং যেসব মানদণ্ড আমরা ক্ষমতাসীনদের কাছে দাবি করি, নিজেদের মধ্যেও সেই মানদণ্ডে দাঁড়াই।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে চাই — বিশেষ করে তরুণদের, যারা রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার খেলা হিসেবে দেখতে চায় না; বরং একটি অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়সঙ্গত রাজনীতিকে আশা করে।” তিনি যোগ করেছেন, বিএনপি সব সময় সময়ের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে আধুনিকায়ন করেছে।

তারেক বলেন, “আমরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ আরও শক্তিশালী করছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতিসহ ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে আমাদের নীতিমালা তৈরি হয়েছে। আমরা অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও বেশি নারী, তরুণ নেতা ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি, যাতে জাতি এগিয়ে যায় এবং রাজনীতি মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকে। বিএনপির পরিচয় হবে সেবা, ন্যায়বিচার ও দক্ষতার প্রতীক; বিভাজন বা সুবিধাভোগের প্রতীক নয়।”

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ আলাদা, তাই আমাদের পদক্ষেপগুলোকেও নতুনভাবে চিন্তা-নির্ভর হতে হবে। তবে আমরা ইতিহাসকে অস্বীকার করি না; বরং তার ভিত্তিতেই এগিয়ে যেতে চাই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে জনগণকে আশা দেখিয়েছিলেন এবং জনগণের ক্ষমতায়নকে রাজনীতির কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়েছেন। আজ আমরা তাদের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে নতুন যুগে এগিয়ে চলেছি, যেখানে সততা, তরুণ নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে।”

তিনি আরও বলেছেন, “নিজ ঐতিহ্যকে ধারণ করে বিএনপি প্রাধান্য দিচ্ছে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, ভবিষ্যতমুখী এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথযাত্রাকে। আমরা জানি, তরুণরা চায় বাস্তব সুযোগ, তারা ফাঁকা বুলি চায় না। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা নয়। আর বিশ্ব চায়, বাংলাদেশ হোক একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সম্মানিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই প্রত্যাশা পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

সবশেষে তারেক রহমান দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকি এবং জনগণের সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকি। আমি যেমন প্রত্যেকের ওপর আস্থা রাখি, আপনরাও আমার ওপর আস্থা রাখুন। তাহলেই গণতন্ত্রের পথ আরও উজ্জ্বল হবে। আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করব, বাংলাদেশে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্থিতিশীল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং গণআকাঙ্খিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব, ইনশাআল্লাহ।”

তারেক রহমানের এ বক্তব্য বাংলাদেশে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক কৌশলকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তিনি দলের মধ্যে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে দেশের জনগণকে আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্ব, নারী ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দলকে আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি দেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এভাবে তারেক রহমানের বার্তা স্পষ্ট যে, দলের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা অর্জন নয়; বরং জনগণের আস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, দলের নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে এবং জনগণের সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।

এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার দেশের রাজনীতিতে একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশ ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত