পাঁচ দাবিতে সাত বিভাগীয় শহরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না জামায়াতের ৫ শীর্ষ নেতা

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও সরব হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি তাদের পাঁচ দফা দাবির পক্ষে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটি। রাজধানীর বাইরে একযোগে আয়োজন করা এই কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত, জাতীয় নির্বাচনে ‘পিআর পদ্ধতি’ বাস্তবায়নের দাবিটি রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কর্মসূচি শুরু হয় বৃহস্পতিবার। শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় দিন, যেখানে সাত বিভাগীয় শহরে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। প্রতিটি মহানগরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা সরাসরি নেতৃত্ব দেন। বরিশালে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রংপুরে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রামে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিলেটে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, রাজশাহীতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং খুলনায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।

বিক্ষোভ মিছিলগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দলটির নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে এবং সংসদের উভয় কক্ষে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন বা পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে।

জামায়াতের পাঁচ দফা দাবিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, অর্থাৎ একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন-পীড়ন, মামলা ও গ্রেফতার নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অর্থহীন হয়ে পড়বে।

এছাড়া তাদের দাবি হলো, অতীতের সব দমননীতি, জুলুম, দুর্নীতি ও গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠকে দমন করা হয়েছে। এই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি বিক্ষোভে দেওয়া বক্তৃতাগুলোতেও শোনা যায়।

অন্যদিকে, জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। দলটির মতে, এই দলগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী এবং বর্তমান ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরার জন্য সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছে।

শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলগুলোতে অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যত ব্যাপক। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেটে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। যদিও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং মিছিলের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল, তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি রাজপথে সক্রিয় না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা আবার নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই পাঁচ দফা দাবি তাদের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। বিশেষ করে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি অনেকের কাছেই নতুন এবং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। পিআর পদ্ধতি চালু হলে সংসদে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হবে, যা বড় দুই দলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং ছোট দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, জামায়াতের এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের কৌশল। দলের অতীত ইতিহাস ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট এখনো রয়ে গেছে। তবে তরুণ প্রজন্ম এবং বিকল্প রাজনৈতিক ধারার সমর্থকরা এই দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছেন।

প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতের কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে জামায়াত তাদের উপস্থিতি জোরালো করতে চায়, যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত দল নয়। ফলে তাদের অংশগ্রহণের ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জামায়াতের এই কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে বিশেষত পিআর পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং নির্বাচনের আগে এই দাবিগুলো রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত