হাসিনার বুলেটে ভয় পাইনি, ভাঙা ডিমে কিছুই আসে যায় না: আখতার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
হাসিনার বুলেটে ভয় পাইনি, ভাঙা ডিমে কিছুই আসে যায় না: আখতার

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা, অশালীন গালিগালাজ এবং ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা সেই প্রজন্ম, যারা হাসিনার বুলেটের সামনে দাঁড়াতে ভয় পাইনি। তাই আজকে যদি ভাঙা ডিম নিক্ষেপ হয়, তাতেও আমাদের কিছু যায় আসে না। বরং এতে আরও একবার প্রমাণিত হলো আওয়ামী লীগ প্রকৃতিগতভাবেই একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।”

আখতার হোসেনের অভিযোগ, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই আওয়ামী লীগের সমর্থকরা উগ্র আচরণ শুরু করে। বিশেষ করে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আখতার বলেন, “এটাই আওয়ামী লীগের প্রকৃত চরিত্র। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার জন্য সন্ত্রাস, হুমকি এবং অশ্লীল আচরণকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে দমাতে তারা সর্বদা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার কার্যকরভাবে শুরু করতে পারেনি। ফলে দলের অনেক নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছে এবং নতুন করে ষড়যন্ত্রের ছক কষছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশে-বিদেশে তারা একইভাবে সহিংসতা ছড়াবে।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীরা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কে পৌঁছালে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সমর্থক স্লোগান দিতে শুরু করে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এনসিপির আখতার হোসেন এবং ডা. তাসনিম জারা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

সেই মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং বিএনপির কয়েকজন কর্মী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন। পুলিশের সহায়তায় তাদের গাড়িযোগে বিমানবন্দর এলাকা ছাড়তে সক্ষম হন নেতারা। এ সময় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান তোলেন আখতার হোসেন।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা প্রবল উল্লাসের সঙ্গে ডিম নিক্ষেপ ও স্লোগান দিচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি ও এনসিপির নেতারা ধীরস্থিরভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। সমর্থকদের মধ্যে তাসনিম জারাকে উদ্দেশ্য করে ব্যবহৃত অশালীন ভাষা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনৈতিক অঙ্গনের চলমান বিভাজন ও উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতির মতো প্রবাসী সমাজেও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি দুই পক্ষের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে আখতার হোসেন তার ভিডিও বার্তায় আরও একবার জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ভয় পাই না, আতঙ্কিত হই না। হাসিনার গুলি যখন ভয় দেখাতে পারেনি, তখন কয়েকটা ডিম দিয়ে আমাদের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। বরং এই ডিমই প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ এখনও সেই একই সন্ত্রাসী চরিত্র বহন করছে।”

তার বক্তব্যের পর বিএনপি এবং এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাটিকে “গণতন্ত্রবিরোধী সন্ত্রাসের উদাহরণ” হিসেবে তুলে ধরছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হামলা নয়, বরং ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। তবে ভিডিওচিত্রে দেখা যাওয়া আচরণকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যেখানে অনেকে মনে করছেন প্রবাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে এমন আক্রমণ দেশের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশি রাজনীতির সহিংস চিত্র আবারও প্রকাশ পেল। বিদেশের মাটিতেও রাজনৈতিক বৈরিতা যে সীমাহীন রূপ নিচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসে এ ধরনের সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে তবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সার্বিকভাবে নিউইয়র্কের এই ঘটনাটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে আক্রমণ নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রতিচ্ছবি। সহনশীলতার অভাব, পরস্পরকে শত্রু মনে করার প্রবণতা এবং দলীয় স্বার্থে হিংসাত্মক আচরণের ধারাবাহিকতা আবারও প্রমাণ করল যে রাজনীতির মাঠে এখনো সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক আচরণের চর্চা দুর্লভ হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত