আজকের স্বর্ণের দাম: রেকর্ড উচ্চতায় বাংলাদেশের বাজার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৭ নভেম্বর ২০২৫–এ কমেছে বাজারে**

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের স্বর্ণবাজার আবারও নতুন রেকর্ড গড়ল। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। সোমবার রাতেই বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দামের তালিকা প্রকাশ করে। এর ফলে একদিনেই ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ১ হাজার ৮৮৯ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। একই সঙ্গে ডলারের অস্থিরতা এবং আমদানির চাপ বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। বাজুস বলছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরি এখন বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকায়, যা পূর্বের তুলনায় ১ হাজার ৭৯৬ টাকা বেশি। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা, বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৫৪০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দামও বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা, যা ভরিপ্রতি ১ হাজার ৩১৮ টাকা বৃদ্ধি। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত এই দামের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত করতে হবে সরকারের ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ। তবে গহনার ডিজাইন, মান এবং কারুকাজের ভিন্নতার কারণে মজুরির তারতম্য হতে পারে। অর্থাৎ ক্রেতাদের চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধের সময় স্বর্ণের মূল দামের সঙ্গে অতিরিক্ত কর ও মজুরি যোগ হবে।

এদিকে স্বর্ণের দামের এই ধারাবাহিক উত্থান সাধারণ ক্রেতাদের চিন্তিত করে তুলেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই জানাচ্ছেন, এখন আর আগের মতো সহজে স্বর্ণ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বিবাহ, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিনিয়োগের জন্য যেসব পরিবার আগে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করতেন, তারা এখন দ্বিধায় পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকায় এই চাপ সাময়িক সময়ের জন্য আরও অব্যাহত থাকতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে ওঠানামার হার ছিল নজিরবিহীন। সেপ্টেম্বর মাসেই একাধিকবার দাম বাড়ানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও তা বেড়ে গেল।

শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই নয়, এ বছর জুড়ে স্বর্ণের দামের রেকর্ড ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে, আর ১৭ বার কমানো হয়েছে। তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, দাম বাড়ার প্রবণতাই প্রাধান্য পাচ্ছে। ২০২৪ সালে ৬২ বার দামের সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। বিশ্ববাজারে ডলারের মান অস্থির, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রানীতির কারণে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। বিয়ের মৌসুমে গহনা কেনার প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন অনেক পরিবার বিকল্প ভাবছেন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে স্বর্ণের বাজার। তবে উচ্চবিত্তদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক মাসেও স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং বিশ্ববাজারের প্রবণতা অনুসারে দাম আরও বাড়তে পারে। যদিও কোনো পর্যায়ে দাম কমতে শুরু করলে বাংলাদেশের বাজারেও তা প্রভাব ফেলবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাম কমার বদলে স্থিতিশীল থাকা বা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সামাজিক প্রভাবের দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সমাজে স্বর্ণ শুধু বিলাসদ্রব্য নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে বিয়েতে কনের গহনা ক্রয় এবং উৎসবগুলোতে স্বর্ণের ব্যবহার অপরিহার্য। তাই দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চাপ তৈরি হচ্ছে।

রুপার বাজার যদিও স্থিতিশীল আছে, তবে তাতে ক্রেতাদের খুব বেশি স্বস্তি নেই। কারণ, বিয়ের গহনা বা অন্যান্য আভিজাত্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে রুপার ব্যবহার তুলনামূলক কম। তাই স্বর্ণের দাম বাড়ার চাপই বেশি অনুভূত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্যসুচি আবারও প্রমাণ করল, বাংলাদেশের স্বর্ণবাজার সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা দ্বারা। এখন প্রশ্ন হলো, এই ধারাবাহিক উত্থান কতদিন স্থায়ী হবে এবং সাধারণ মানুষ কখন আবারও স্বস্তির সঙ্গে স্বর্ণ কিনতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত