প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় ইসরাইলের চলমান হামলা ও তীব্র মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের ফাঁকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানের নেতা বা শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধোত্তর শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বৈঠকে গাজায় হামাসের হাতে বন্দী থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধোত্তর শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এর পাশাপাশি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার শাসনব্যবস্থায় হামাসকে বাদ দিয়ে নতুন শাসন কাঠামো নির্মাণের বিষয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াশিংটন আশা করছে, মুসলিম দেশগুলো গাজায় শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠাতে সম্মত হবে, যা ইসরাইলকে সাময়িকভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে সাহায্য করবে।
এ বৈঠককে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি গাজার পুনর্গঠন এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সমর্থন দিতে আমেরিকা অনুরোধ করবে। বিশেষভাবে, গাজার অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়নের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
গত সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি সম্মেলনে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর একদিন পর ট্রাম্পের এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈঠকের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি গাজার সংকট সমাধানে যুক্তি ও কৌশল প্রদর্শন করবে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রথমত, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, হামাসকে গাজার শাসনব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া; এবং তৃতীয়ত, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ। এর পাশাপাশি বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক এবং মানবিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হবে।
গাজার মানুষের মানবিক অবস্থার উপর বৈঠকের প্রভাব ব্যাপক। চলমান সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে, আহত হয়েছে অনেকে, এবং মৌলিক চাহিদা যেমন খাবার, পানি ও চিকিৎসা সেবা সীমিত। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে চিহ্নিত করেছে। বৈঠক শেষে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা গ্রহণ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বৈঠকটি শুধু সাময়িক শান্তি প্রক্রিয়া নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষভাবে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় গঠন মার্কিন প্রশাসনের বহুমাত্রিক কৌশলের অংশ।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করছেন, বৈঠকে মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক সমর্থন প্রদানের মাত্রা নয়, বরং গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ দ্রুত পুনর্বাসন পাবে এবং মানবিক সঙ্কটের মাত্রা কমানো সম্ভব হবে।
মার্কিন প্রশাসনের আশা, বৈঠকের মাধ্যমে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন উভয় পক্ষকে শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যাবে। বিশেষভাবে, হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তী শাসন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী গাজায় অবস্থান করতে পারবে, যা শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের বৈঠককে বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রদর্শনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
গাজার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য বৈঠকে মুসলিম দেশগুলোকে বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। এতে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের বৈঠক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া, গাজার মানবিক পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈঠকের ফলাফল বিশ্বরাজনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বৈঠক শেষে গাজা পুনর্গঠন, শান্তি প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আশা করা হচ্ছে।