শ্রীমঙ্গলে ১৪ ফুটের অজগর উদ্ধার, বন বিভাগে হস্তান্তর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
শ্রীমঙ্গলে ১৪ ফুটের অজগর উদ্ধার, বন বিভাগে হস্তান্তর

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে একটি বিশালাকার অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শ্রীমঙ্গলের জেটি রোডের দেবনাথ সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাটে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই বিরল ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, শ্মশান প্রাঙ্গণে কিছু শ্রমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন, হঠাৎ তারা ঝোপঝাড়ের মধ্যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বোঝা যায়, এটি ছিল এক বিশাল অজগর।

স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানায়। ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। স্বপন দেব সজল সাংবাদিকদের জানান, “অজগরটির ওজন প্রায় ২৪–২৫ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট। এটি সাধারণ সাপের তুলনায় অত্যন্ত বড় এবং বিরল প্রজাতির।”

পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটিকে সুরক্ষিতভাবে ধরে রাখেন এবং পরে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, সাপটি হুমকির মধ্যে নয়, তবে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও সাপটির স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে এটিকে বন বিভাগের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

এই ধরনের বিশাল অজগর সাধারণত শ্রীমঙ্গলের ঘন বনাঞ্চল ও জলাশয়ে দেখা যায়। শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাটের কাছাকাছি এ ধরনের বিরল অজগর পাওয়া স্থানীয়দের জন্য বিস্ময়কর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজগর সাধারণত মানুষের উপস্থিতি এড়িয়ে চলে, কিন্তু কখনো কখনো খাবার বা আশ্রয়ের সন্ধানে গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, অজগরটির উপস্থিতি দেখে অনেকেই প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ সাপটির আশেপাশে ঘেরা এলাকা থেকে দ্রুত সরে যান। তবে ফাউন্ডেশনের উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাপটিকে সুরক্ষিতভাবে ধরা সম্ভব হয়। “আমরা চাই, মানুষ ও বন্যপ্রাণী একে অপরের প্রতি সহমর্মী হোক। এই ধরনের ঘটনা প্রাকৃতিক নিয়মের অংশ,” বলেন স্বপন দেব সজল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগর বাংলাদেশের অন্যতম বড় সাপ প্রজাতি, যা সাধারণত নদী, জলাশয় এবং ঘন বনাঞ্চলে বসবাস করে। এই সাপের দৈর্ঘ্য কখনো কখনো ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে, তবে শ্রীমঙ্গলে ১৪ ফুটের অজগরও বিরল। এ ধরনের সাপের প্রধান খাদ্য শুঁটকির মাছ, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখি। সাপটির উদ্ধার মানুষের জন্য আশার বার্তা, কারণ এটি প্রমাণ করে যে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী এখনও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা এ ধরনের ঘটনা নিয়ে সতর্ক থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের সচেতন করতে ও সাপ-মানুষ সংঘর্ষ এড়াতে নিয়মিতভাবে বনাঞ্চল পরিদর্শন ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। এছাড়া, স্থানীয় মানুষদের অজগর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সচেতন করে তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও বেশি সচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম চালানোর পরিকল্পনা করছে। শ্রীমঙ্গলের অজগর উদ্ধার ঘটনা জনসাধারণের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানব-প্রাণী সহাবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলে এই ধরনের বিরল সাপের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। পর্যটকরা বন্যপ্রাণী দেখার জন্য এই এলাকায় আগ্রহী হতে পারেন, তবে এর সঙ্গে সাপ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

অতএব, শ্রীমঙ্গলের এই ১৪ ফুটের অজগর উদ্ধার কেবল বিরল বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা একযোগে কাজ করে মানুষ ও প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও নিরাপদে পরিচালনার জন্য সহায়ক হবে।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

সর্বশেষ, রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, অজগরটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং বনাঞ্চলে পুনঃস্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য পর্যবেক্ষণ চলছে। স্থানীয় মানুষ ও শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, সাপটির উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা আশ্বস্ত, কারণ ফাউন্ডেশন ও বন বিভাগের উদ্যোগে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের ১৪ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর উদ্ধারের এই ঘটনা মানব ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ইতিহাসে রয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত