১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩১ বার
নিবন্ধনের জন্য ১০ দলের কার্যক্রমে অনুসন্ধান শুরু ইসির

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক,একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা প্রায় ১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তার ভোটাধিকার সুরক্ষিত হতে যাচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভোটের দায়িত্ব পালন করলেও নিজের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সিইসি এ কথা জানান। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, কমিশন জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে। এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য। সিইসি বলেন, “গণমাধ্যম ছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা সম্ভব নয়। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এ সময় তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্যও তুলে ধরেন। কমিশনের সর্বশেষ উদ্যোগে ২১ লাখ মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সঠিকতা আনতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় থাকার কারণে অতীতে নানা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছিল। কমিশন মনে করছে, এবার সেই সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোটের দিন দায়িত্ব পালনের কারণে নিজেদের ভোট দিতে পারেননি। এবার তাদের জন্য ডাক ভোট বা অন্য কোনো প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে ভোটের দিনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণা শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যই নয়, বরং দেশের ভোটাধিকার বিস্তারের ক্ষেত্রেও একটি নতুন উদাহরণ স্থাপন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ভোটের দিনে দায়িত্ব পালনকারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি এটি সাধারণ ভোটারদের কাছেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

মতবিনিময় সভায় সিইসি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হতে পারে, যা নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি। এজন্য তিনি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এবং ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রসার রোধে সক্রিয় হয়।

গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশনের অংশীদার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম আমাদের চোখ ও কান। নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের স্বচ্ছ ভূমিকা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়তা করবে। আমরা চাই প্রতিটি ভোট যেন নিরাপদে, নিরপেক্ষভাবে এবং যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে প্রদান করা হয়।”

এছাড়া নির্বাচন কমিশন বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনাও অব্যাহত থাকবে, যাতে করে সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠনে এইসব উদ্যোগকে যুগোপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পদক্ষেপগুলো সাধারণ জনগণের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন যদি তাদের ঘোষিত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কারণ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সবসময়ই বাংলাদেশের নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবারের নির্বাচনে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষে, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচনকে একটি উৎসবে পরিণত করতে। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি অনন্য সুযোগ। সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমরা একটি স্মরণীয় নির্বাচন উপহার দিতে চাই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত