প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নাঈম-শাবনাজ দম্পতির নাম গেঁথে আছে বিশেষ সাদৃশ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার জন্য। ১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর এহতেশাম পরিচালিত সিনেমা ‘চাঁদনী’-র মাধ্যমে এই জুটি প্রথমবারের মতো পর্দায় অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ বছর তাদের সংসার জীবনের ৩১ বছর পূর্ণ হলো, যা এক রোমান্টিক ও স্থায়ী সম্পর্কের নিদর্শন।
দম্পতির সংসারে দুই মেয়ে, নামিরা ও মাহাদিয়া, রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা দুজনই চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের মধ্য দিয়ে সুখী জীবন যাপন করছেন। নাঈম-শাবনাজের এই দীর্ঘ সম্পর্কের মূল গোপনীয়তা হলো পারস্পরিক সম্মান, কেয়ারিং এবং ভালোবাসা। শাবনাজ জানান, তাদের ভালোবাসা শুধু দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিস্তৃত। নাঈমের পরিবারের সকলের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর।
শাবনাজ মনে করেন, এই দীর্ঘ সম্পর্কের পিছনে আল্লাহর রহমত এবং ধৈর্য অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, “মানুষের সংসার অনেক ছোটখাটো কারণে ভেঙে যেতে পারে—রাগ, অহংকার বা সম্মানহীন আচরণের জন্য। আমাদের ক্ষেত্রে আল্লাহ ধৈর্য দিয়েছেন, তাই আমরা ৩১ বছর ধরে একসঙ্গে পথ চলতে পেরেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাঈমের খারাপ সময়ে পাশে থাকার জন্য তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন। পারস্পরিক সমর্থন, বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীলতা তাদের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করেছে।
শাবনাজ বলেন, “এত বছর ধরে ভালোবাসা শুধু ভালোবাসা নয়, এটি এখন মায়া, মহব্বত, কেয়ার এবং সম্মানের রূপ নিয়েছে। আমরা একে অপরকে কেবল ভালোবাসিনি, বরং পরিবারের সবার সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে এই ভালোবাসা ছড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, নাঈমের দুই বোন, কাজিন এবং আত্মীয়রাও নাঈমকে ভ্রাতার মতো মনে করে এবং তাকে ভালোবাসে।
নাঈমও শাবনাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “শাবনাজ আমাকে সর্বদা সমর্থন করেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা মানে শুধু ভালোবাসা নয়, শান্তি, নিরাপত্তা এবং পরিবারকে কেন্দ্র করে একটি সুন্দর জীবন। তাঁর ছোট ছোট আচরণ, যেমন বাইরে যাওয়া বা কোনো মুহূর্তে আমাকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা, এগুলোই আমাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে।”
শাবনাজের কথায়, অভিনয় জীবনে তিনি যে কোনো চাপ সামলাতে পেরেছেন তা নাঈমের সমর্থনেই সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, তাদের সময়ের সঙ্গে অভিনয় শিল্পে পরিবর্তন এসেছে, যা তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত মূল্যবোধ তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।
নাঈমের পক্ষ থেকে জানা যায়, তাদের ভালোবাসা শুধু দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাঈম শাবনাজকে প্রতিবার বিশেষ উপহার দেন, বিশেষ করে ফুল। শাবনাজ স্মরণ করেন, বিয়ের আগে নাঈম একবার পুরো বাসা ফুল দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছিলেন, যা তার কাছে আজও অত্যন্ত স্মরণীয়। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাদের সম্পর্ককে রোমান্টিক এবং শক্তিশালী করেছে।
দম্পতির এই দীর্ঘ পথচলা শুধু ভালোবাসার প্রতীক নয়, বরং পরিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। শিল্প জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও তারা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ককে অটুট রেখেছেন এবং পারিবারিক বন্ধনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
নাঈম-শাবনাজের ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবন প্রমাণ করে, ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি ধৈর্য, সমঝোতা, সমর্থন এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। চলচ্চিত্র জগতে তাদের অবদান এবং ব্যক্তিগত জীবনে এই স্থায়িত্বশীল ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক দৃষ্টান্ত।