অবশেষে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১০ম গ্রেডে বেতন সুবিধা অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০০ বার
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের জন্য নতুন স্বস্তি: ১০ম গ্রেডে বেতন সুবিধা অনুমোদন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর  ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন। এর ফলে তাদের বেতন ও অন্যান্য ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আসছে, যা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-১৪ শাখা থেকে মঙ্গলবার একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখন থেকে ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা ১২তম গ্রেডে ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে উভয় শ্রেণির শিক্ষকই সমান মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা পাবেন, যা তাদের পেশাগত মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে।

তবে এই উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের হাতে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া পদোন্নয়ন এবং গ্রেড পরিবর্তনের বিষয়টি বিদ্যমান নিয়োগবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করে সেই বিধিতে সংশোধন আনতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব প্রধান শিক্ষক এখনো বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্যও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি আদেশ জারি হওয়ার তারিখ থেকে ১৬ মাসের মধ্যে প্রত্যেক প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষককে প্রাথমিক শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ (Basic Training for Primary Teachers) সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ না করলে তারা নতুন গ্রেড সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সরকারি আদেশের একটি কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগে পাঠাবে। এরপর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা যোগান্তকারী প্রদক্ষেপ । বহু বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা তাদের পদ মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি ঘটায় শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরেছে।

একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষকদের আর্থিক উন্নতি নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, প্রধান শিক্ষকরা এখন আরও উৎসাহ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করবেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশনা কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেডের আওতায় আসবেন। এটি প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মূলত শিক্ষকতা একটি মহান পেশা কষ্টসাধ্য কিন্তু সে অনুযায়ী বেতন ভাতা অতি অল্প ,জীবনের শেষ বয়েসের আশায় শিক্ষক নামের মহান ব্যক্তিরা কেবল খেটে গেলেন সে অনুযায়ী  তাঁদের পারিশ্রম মর্যাদা দেয়া হয়ে নি কোনোদিন।
শিক্ষক মহলে এখন একটাই আশা—এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হোক, যাতে বহু বছরের বঞ্চনা অবসান ঘটে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় আবারও নতুন উদ্যমের সঞ্চার হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত