নোয়াখালীতে সড়কে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩১ বার
নোয়াখালীতে সড়কে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হলো

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সুব্রত চন্দ্র দাশ (৪২)। স্থানীয় চর জবলী গ্রামের পালোয়ান বাড়ির সামনে আট কপালিয়া-পরিষ্কার বাজার সড়কে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত সুব্রত চন্দ্র দাশ চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর বজলুল করিম গ্রামের চিরু রঞ্জন দাশের ছেলে। খবর পেয়ে চর জব্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য আগামী মঙ্গলবার সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

নিহত সুব্রত চন্দ্র দাশের স্ত্রী রিকতা রানী দাশ চর জব্বর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত। প্রতিদিন তিনি স্ত্রীর কর্মস্থলে পৌঁছে দিতেন এবং দুপুরে ফিরে আসতেন। সোমবারও তিনি মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রীকে আনতে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, পথের ঠিক পালোয়ান বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সুব্রতকে মাথা ও গলায় কুপিয়ে হত্যার পর সড়কের ওপরই লাশ ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সড়কের ওপর অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল।

নিহতের আত্মীয় লিটন চন্দ্র দাশ প্রথম আলোকে বলেন, “সুব্রত একসময় ব্যবসা করতেন, তবে স্ত্রীর চাকরির কারণে কয়েক বছর আগে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। আজ দুপুরে স্ত্রীকে মোটরসাইকেলযোগে আনতে যাওয়ার পথে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা জানি না কেন বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।” তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকেরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়ক দিয়ে যেতে দেখেছেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা সেই অটোরিকশায় করে এসে হামলা চালিয়েছে। লিটন চন্দ্র দাশ দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন, নিহত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে কর্মস্থল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন। “তার মোটরসাইকেল সড়কের ওপর পড়ে আছে। হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছি। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,” তিনি বলেন।

স্থানীয়রা জানান, এই নৃশংস ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত। এমন প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি পাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা কেবল নিহত পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা অত্যন্ত সজ্জিত এবং পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, যা পুলিশের তদন্তকে আরও জটিল করে তুলছে।

নিহত সুব্রতের স্ত্রী, রিকতা রানী দাশ, সংবাদ মাধ্যমে জানান, “সুব্রত প্রতিদিন আমাকে কর্মস্থল থেকে আনতেন। তিনি কখনো কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াননি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের পুরো পরিবারকে শোকাহত করেছে। আশা করি দোষীদের দ্রুত বিচার হবে।”

এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে পুলিশের তৎপরতা ও ঘটনার তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সঠিক কারণ ও পরিকল্পিত কিনা তা স্পষ্ট নয়।

নিহতের আত্মীয় ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এই ধরনের নৃশংস ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। সামাজিক ও মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ নিশ্চিত হলে পুনরায় এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

সুবর্ণচর উপজেলার এই ঘটনার মাধ্যমে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও তৎপর হওয়া জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও দণ্ড প্রদান নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। এলাকায় এখনও হত্যাকাণ্ডের ছাপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এবং মানুষ আতঙ্ক ও শোকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত