বৈষম্যবিরোধী দুই ছাত্রনেতাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার
বৈষম্যবিরোধী দুই ছাত্রনেতাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

খুলনার খালিশপুর এলাকায় ওএমএস ডিলারের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈবিছাআ) সাবেক দুই নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন সংগঠনের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক আশিকুর রহমান ও সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব সৈয়দ আব্দুল্লাহ সিকি। ঘটনার সময় তারা নগরীর খালিশপুর বাস্তুহারা মোড়ে উপস্থিত ছিলেন।

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর আতাহার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ওএমএস ডিলারের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।” পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাস্তুহারা মোড়ে অবস্থানরত ওএমএস ডিলারের কাছে আশিকুর ও আব্দুল্লাহ চাঁদা দাবি করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আটক রেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাদের দু’জনকে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃত সৈয়দ আব্দুল্লাহ সিকি নগরীর বাগমারা এলাকার বাসিন্দা এবং মুরাদ আলীর ছেলে। অপরদিকে আশিকুর রহমান একই এলাকার বাসিন্দা আজমলের ছেলে। দু’জনেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগর শাখার নেতা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের ৬ মার্চ দল থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ সিকি গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর নগরীর হাজী মহসিন রোডে সংঘটিত সোহেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া, আশিকুর রহমানও বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় অংশগ্রহণের অভিযোগে পরিচিত।

স্থানীয়রা বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, হুমকি-ধামকি ও সহিংসতার অভিযোগে তাদের নাম উঠে এসেছে। যদিও তারা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এলাকায় সক্রিয়তা চালিয়ে যাচ্ছিল।”

পুলিশ আশা করছে, মামলার তদন্ত শেষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, কেউ কোনো অবৈধ প্রভাব সৃষ্টি করতে বা ঘটনার জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

নগরীর সাধারণ মানুষও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি স্থানীয় ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে। পুলিশের দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ বিষয়টিকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তুহারা মোড় ও আশেপাশের এলাকায় দোকানপাট ও ব্যবসায়ীরা সর্তক অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা এখন নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, কারণ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে।

পুলিশ বলেছে, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলা শেষে তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার প্রেক্ষাপটে খুলনা মহানগর পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় থানার কর্মকর্তারা এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত