প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে ঘটে গেছে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যেখানে একটি বাসের ধাক্কায় অপর বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এক শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্বসদরদী এলাকায়।
নিহত নারীর নাম শামসুন্নাহার বেগম (৪০)। তিনি বরিশালের উজিরপুরের বাসিন্দা এবং পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্ত্রী। নিহত শিশুর নাম রাবেয়া (৮)। সে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লোডা গ্রামের বাসিন্দা হানিফ গাজীর মেয়ে। শামসুন্নাহার ঘটনাস্থলেই মারা যান। শিশু রাবেয়ার চাচা ফিরোজ গাজী জানান, রাবেয়া গুরুতর আহত হয় এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বেলা দুইটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী ইউরোলাইন পরিবহনের একটি বাস শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। শ্যামলী পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এরপর আহতদের দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করতে কিছু সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরে রেকার দিয়ে বাসটি তোলার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্যামলী পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এই দুর্ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দারা বলেন, মহাসড়কের যানবাহনের অতিরিক্ত গতিসীমা ও ভঙ্গুর সড়ক পরিস্থিতিই এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কঠোর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন ড্রাইভিং অভ্যাস প্রতিষ্ঠা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশু ও নারীর আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর দুঃখ ও ব্যথা সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিবারও জানিয়েছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনায় দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে।
এ দুর্ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তার দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বাস চালকের ত্রুটি, ওভারটেকের সময় সতর্কতার অভাব এবং সড়কের ভঙ্গুর অবস্থা মিলিতভাবে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
দূর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা।