পিরোজপুরে এলজিইডি কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৬২ বার
এলজিইডি দুর্নীতি মামলা পিরোজপুর

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার এবং তার পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলায় দুদক মামলা করেছে। একই সঙ্গে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের দুই ভাইও এই মামলার শিকার হন। মঙ্গলবার মামলা দায়েরের আগে দুদকের পিরোজপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টির তদন্ত সম্পন্ন করেন। মামলাগুলো দায়ের করেছেন দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আব্দুস সাত্তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তার স্ত্রী রীনা পারভীন এবং দুই ছেলে এইচ এম মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত ও এইচ এম ফজলে রাব্বি রিমনের নামে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের নামে থাকা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সাবেক প্রকৌশলী সাত্তার তার স্ত্রী রীনা পারভীনের নামে প্রায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদ বিনিয়োগ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী পৌরসভার আরামবাগে একটি তিনতলা ভবন, ঢাকার পান্থপথে একটি ফ্ল্যাট এবং আগারগাঁওসহ অন্যান্য এলাকায় ফ্ল্যাট। এরপরে, সাত্তার এবং তার দুই ছেলের নামে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পে কাজ না করে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অর্থ স্থানান্তর এবং জমার মাধ্যমে সাত্তার মানি লন্ডারিং করেছেন।

অপরদিকে, মহিউদ্দীন মহারাজের দুই ভাই—মো. সালাউদ্দিন এবং মো. শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে যথাক্রমে প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ ও ২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত্তার ও তার পরিবারের অভিযুক্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ক্রোক এবং ফ্রিজ করা হয়েছে। এর আগে পিরোজপুর এলজিইডি অফিস থেকে কাজ না করে আটটি প্রকল্প থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহারাজসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। এছাড়াও, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং তাদের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।

এমতাবস্থায়, পিরোজপুরে দুদকের এই পদক্ষেপ দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাগুলো প্রমাণিত হলে দেশের সরকারি প্রকল্প ও জনসম্পদ রক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জোরালো বার্তা প্রদান করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করবে।

নাগরিকদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক সংকেত, কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে জনসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। দেশবাসী আশা করে, এই মামলা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com