চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধারকাজ চলছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮১ বার
চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধারকাজ জোরে চলছে

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রামের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ইপিজেডের আদম টেক্সটাইলের সাত তলা কারখানায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুহূর্তেই শিখা ছড়িয়ে পড়ে ভবনের প্রায় সব ফ্লোরে; গভীর ধোঁয়া ও তীব্র তাপ ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নয়টি ইউনিট এবং নৌবাহিনীর দুইটি ইউনিট কাজ করছে বলে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস অফিসাররা জানান, চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত আদম টেক্সটাইল কারখানার তৃতীয় ও উপরের তলায় থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কারখানাটিতে বহুমাত্রিক দাহ্য পদার্থ ও প্রশস্ত মেশিনারির উপস্থিতি আগুনের বিস্তারকে দ্রুততর করেছে। দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া শিখা, বিস্তীর্ণ ধোঁয়া ও রুদ্ধশ্বাস তাপের কারণে উদ্ধারকাজ জটিলতর হয়েছে। নৌবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা ও আশপাশ থেকে পানি সরবরাহের কাজে যুক্ত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে কয়েকশো শ্রমিক কাজ করছিলেন; উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ শ্রমিক নিজ উদ্যোগেই বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস এখনো নিশ্চিত বলতে পারছে না কেউ ভবনেই আটকা আছে কি না। আইনি ও আনুষ্ঠানিক ঘটনার হিসাব নিশ্চিত করতে জরুরি ও প্রাথমিকভাবে আহত বা নিহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। রেসকিউ টিম ও এম্বুল্যান্স তৎপর রয়েছে; আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের বহু প্রতিষ্ঠানেও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে; আশপাশের সড়কে যানচলাচলও প্রভাবিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এলাকার মানুষের অনুরোধ করেছেন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত না ঘটাতে। তারা জানিয়েছেন, সঠিক কারণ নির্ণয় এবং সম্পূর্ণ আগুন নেভাতে সময় লাগবে; পরিস্থিতি আরও কড়া পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে কাজে তৎপর দেখা গেছে; তারা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি বলে জানা যায়। নৌবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশও উদ্ধারকাজে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পোশাক শিল্পে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে এ ধরনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শ্রমিক সুরক্ষা, জরুরি রাস্তা ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উদয় হয়েছে। শিল্পবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সরঞ্জাম, দাহ্য উপকরণ আগুন ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়; ঠিকঠাক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা থাকলে জরুরি পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব। তবে এই দাবি ও বিশ্লেষণ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণসাপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম একটি শিল্পকেন্দ্র; এখানে ইপিজেডে অবস্থিত বহু রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস দেশের কোটি মানুষের রোজগারের উৎস। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকেই প্রভাবিত করে না, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও তা স্পর্শ করে। ফলে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি কর্মস্থলে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি উঠতে পারে।

এ মুহূর্তে উদ্ধারকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন তলায় ঢুকে আটকে পড়া কেউ আছে কি না তা খুঁজছেন এবং আগুন নেভাতে পানির চাপ ও শিখা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ করছেন। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ উদ্ধারকাজের অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে না; বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট হালনাগাদ করা হবে।

স্থানীয়দের বক্তব্য ও চোখে-দেখা বিবরণ অনুযায়ী, আগুনের কারণ সম্পর্কে গতিবিধি স্পষ্ট নয়; কারখানার অভ্যন্তরীণ কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈদ্যুতিক স্বল্পতা বা দাহ্য পদার্থের আচমকা স্ফুলিঙ্গ—যে কোনো কিছুকে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।

প্রাথমিক এই প্রতিবেদনে যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা ভিত্তিক; ফেরত পাওয়া অফিসিয়াল বয়ান ও কর্মকর্তা-উদ্ধৃতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পরবর্তী আপডেটে বিস্তারিত জানাবো। এই ঘটনার ফলে যতজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রতি দ্রুত মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হবে—এটিই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত