প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
গাজীপুরের শিমুলতলী এলাকায় ‘বাণিজ্য মেলা’র নামে চলছে জুয়ার আসর ও লটারি প্রতারণা—এমন অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত হানার অভিযোগ এনে এলাকাবাসী শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর শিববাড়ি-শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করে মেলা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলায় প্রবেশমূল্যের নামে প্রতিটি দর্শনার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, আর সেই টিকিটকেই ‘লটারি কুপন’ হিসেবে ব্যবহার করে বড় পুরস্কারের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এসব পুরস্কার পাচ্ছে মেলার আয়োজকদের নিজেদের লোকজন। মেলায় প্রতিদিন শত শত অটোরিকশার মাধ্যমে শহরজুড়ে লটারি বিক্রি করা হচ্ছে, যা এখন একপ্রকার প্রকাশ্য প্রতারণায় রূপ নিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু লটারি নয়, মেলায় চলছে জুয়ার টেবিল এবং অশ্লীল নাচগান, যা যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, “এটি কোনো বাণিজ্য মেলা নয়, এটি আসলে জুয়ার আসর। আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি মেলা বন্ধ না করা হয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।”
ঘটনাটির পেছনে আরও জটিল চিত্র উঠে এসেছে। জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) পক্ষে একটি অবহিতকরণ চিঠি বিতরণ করা হয়, যেখানে ‘আর্মি ফার্মা ফ্যাক্টরি’ সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজনের কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে সেই অনুমতি অনুযায়ী কোনো ক্ষুদ্র শিল্প মেলা নয়, বরং চলছে বাণিজ্যিক লটারি ও জুয়া।
মেলার আয়োজন করেছে ‘বেনারশী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী বাদল মিয়া। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এই মেলার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “পরিপত্র অনুযায়ী জেলা বা মহানগর এলাকায় মেলা আয়োজনের অনুমতি এক মাসের জন্য জেলা প্রশাসক দিতে পারেন। কিন্তু এই মেলার আয়োজকরা কোনো অনুমতি নেয়নি। তারা কেবল একটি অবহিতকরণ চিঠি দিয়েছে, যা অনুমোদনের বিকল্প নয়। আমরা অননুমোদিত মেলা বন্ধের জন্য মহানগর পুলিশকে চিঠি পাঠিয়েছি।”
এদিকে, মেলার অশোভন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরাও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সামাজিক অস্থিরতা ও তরুণ প্রজন্মের মানসিক অবক্ষয় ডেকে আনছে। তাই তারা প্রশাসনের কাছে মেলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গাজীপুরের শিমুলতলীতে মেলার নামে জুয়া-লটারির এই ঘটনাটি এখন প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।