হাজী সেলিম ও তার পুত্রকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২ বার
হাজী সেলিম ও তার পুত্রকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাজধানীর শাহবাগ থানার চাঁনখারপুল এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে সোলায়মান সেলিমকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াক। সোমবার (২০ অক্টোবর) তাদের আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল ইসলাম খান পুলক ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন, অন্যদিকে হাজী সেলিমের পক্ষে আইনজীবী প্রাণ নাথ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাজী সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ১৪ নভেম্বর তার ছেলে সোলায়মান সেলিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শাহবাগ থানার চাঁনখারপুল এলাকায় জুলাই আন্দোলনের সময় ক্ষুদ্র জুট ব্যবসায়ী মো. মনির আন্দোলনে অংশ নেন। দুপুরের সময়ে আসামিদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কামরুল ইসলাম এই মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

আন্দোলনের দিন থেকে হত্যাকাণ্ড ও মামলার প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে হাজী সেলিম ও তার ছেলে সোলায়মানকে গ্রেফতার করা হলেও মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আদালতের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাদের থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নেওয়া হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিমান্ডের সময় তারা নিহত মনির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য উন্মোচন করার চেষ্টা করবেন। এছাড়া অভিযুক্তদের সঙ্গে আন্দোলনের অন্যান্য ঘটনার সংযোগ ও সংঘটিত সহিংসতার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

এই হত্যাকাণ্ড ও মামলার প্রেক্ষাপট দেশের রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। মামলার রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ফ্যাক্টচেক সম্পন্ন করবেন।

রিমান্ড আদেশ প্রসঙ্গে আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামলার গুরুত্ব ও প্রমাণের সংযোজনের জন্য আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আসামিদের রিমান্ডে রাখা বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।

এই মামলার তদন্ত এবং আদালতের রিমান্ড কার্যক্রমের ফলাফল দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের নজরকে আকর্ষণ করেছে। হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে রিমান্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত