প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কাউখালীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা এক যুবকের প্রাণ কেড়ে নিল। মো. আলী হাসান (৩০) নামের যুবক রোববার রাতে খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি শিয়ালকাঠি গ্রামের হাকিম হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ রাতেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্ব শিয়ালকাঠির বান্দাঘাটা গ্রামে স্থানীয়রা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন। ওই সময় আশপাশের মানুষজন চারপাশ ঘেরাও করে মো. আলীকে আটক করে বেধড়ক মারধর করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও মানুষ এসে তাকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা আলীকে উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়, যেখানে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, আলী এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং চোর ছিলেন। তিনি রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পূর্ব শিয়ালকাঠির এক বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে ধরার পর মারধর করে। ঘটনাস্থল থেকে আলীর কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
কাউখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দলীয় কাজে স্বরূপকাটিতে ছিলেন। পরে শুনেছেন যে, আলী তার বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিলেন। মসজিদের মাইকে ডাকাতির বিষয়টি ঘোষণা করা হলে আশেপাশের মানুষজন এসে তাকে গণপিটুনি দিয়েছে।
নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, মো. আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার স্ত্রী সোনিয়া ও আত্মীয়স্বজন বলেন, আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় আলীর স্ত্রী সোনিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মাসুদ হাওলাদার (৫২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং প্রশাসন যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। গণপিটুনির ঘটনাটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।