“নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনা …তিনি ফিরবেননা- খবর রয়টার্স

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৫ বার
২৩০ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত কোনো নারী সরকারপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নবনিযুক্ত নির্বাসনজীবী ও ক্ষমতাচ্যুত নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি তাঁর দল—আওয়ামী লীগ—কে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়, তবে দলটির লাখ লাখ সমর্থক ঐ নির্বাচনের বিরুদ্ধে বয়কট ঘোষণা করবে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রয়টার্সকে ই-মেইলে পাঠানো এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন এবং নির্বাচনের বৈধতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন তুলে ন্যায়েরিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ওপর জোর দেন।

রয়টার্সের প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, যদি ভবিষ্যৎ সরকার নির্বাচন আয়োজন করে যেখানে আওয়ামী লীগকে বাদ দেয়া হয়, সে সরকারের আমলে তিনি দেশে ফিরবেন না; বরং তিনি ভারতেই অবস্থান বজায় রাখবেন। ২০২৪ সালের অগাস্টে দেশে ছাত্র নেতৃত্বে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর তিনি ভারতে যান; এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশ শাসন করছে এবং তারা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আঙ্গিকার কথা জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা তাঁর মন্তব্যে জানান, “আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায়ই নয়, বরং আত্মঘাতী। পরবর্তী সরকারের অবশ্যই নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক, এমন পরিস্থিতি থাকলে, ভোটে অংশ নিবে না। একটি কার্যকর রাজনৈতিক সিস্টেম চাইলে আপনি লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না।” তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অংশগ্রহণের ব্যত্যয় ঢেলে দিতে পারে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি ও আন্তর্দেশীয় গ্রহণযোগ্যতা।

শেখ হাসিনার এই বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন তাদের প্রতি রুখা পদক্ষেপ ও আইনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে বিতর্ক তা আরো জোরালো হচ্ছে। গত বছরের পাঁচই ডিসেম্বর এক আদেশে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং আগের দেওয়া নির্দিষ্ট বক্তব্যগুলো সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেয়—এমন দাবির কথা আলোচিত হয়েছে এবং তা থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ নির্বাচনী পূর্বাভাস ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত ও নির্বাসিত কোনও প্রধানমন্ত্রীর ফেরার ইঙ্গিত এবং নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে তীব্র দাবী সমাবেশে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা লাগাতে পারে। অনেকে মূল্যায়ন করেন, যদি প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অংশগ্রহণ না নিশ্চিত করা যায়, তা হলে নির্বাচন গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং দেশীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করবে। নির্বাচন বয়কট কেবল ভোট না দেওয়ার ঘটনা নয়; তা সরকারের স্বীকৃতি, প্রশাসনিক বৈধতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

শেখ হাসিনার ভাষ্য ও পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক পটভূমি ও জনগণের প্রতিক্রিয়ার দিকে এখন নজর রয়েছে। তিনি যদি ভারতেই অবস্থান বজায় রেখে রাজনৈতিক নীরবতা ভাঙেন বা তরঙ্গ তুলেন, সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন একটি ধাক্কা সৃষ্টি হবে; অন্যদিকে যদি রাজনৈতিক সমঝোতা বা আলোচনা কোন পথে এগোতে পারে, সেটাও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।

আইনি নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রশ্নগুলো কেবল রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো দেশের জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যে কোনো নির্বাচনের বৈধতা নির্ণয়ে অন্তর্ভুক্তি, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, বিবাদমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হচ্ছে—কীভাবে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন একটি নির্বাচন আয়োজিত করবেন যাতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণের সুযোগ সমানভাবে নিশ্চিত থাকে এবং আইনগতভাবে উঠতে থাকা অভিযোগ-প্রতিবাদের যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

রয়টার্স ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর অংশগ্রহণ বন্ধ করা হয়, তাহলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠবে এবং বৃহৎ অংশের জনগণ নির্বাচন বর্জন করতে পারে। এই ধরনের সম্ভাব্য বয়কট শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত তখন যখন দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতাগত শৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র নেতৃত্বাধীন ২০২৪ সালের গতিবিধি ও তার পরবর্তী ঘটনাগুলো—যেমন সরকারপ্রধানের বিদেশ গমন, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ এবং নির্বাচনের পূর্বতফসিল—সবই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই শ্রেণির পরিবর্তনগুলো সাধারণত রাজনৈতিক উত্তাপ, আইনি খতিয়ান ও সামাজিক বিভাজনকে উসকে দেয়; ফলে প্রতিটি ধাপে পেশাদার রাজনৈতিক মধ্যস্থতা, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এককভাবে কোনও ব্যক্তির দেশে ফেরার সংবাদ বা কোনো দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে হুমকি নির্বাচন-জটিলতাকে জোরালো করবে। তবে তারা একইসঙ্গে সতর্ক করছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সংলাপ ও মধ্যস্থতার পথ খুলে দেওয়া সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নির্বাচন বয়কট বা রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা শেষপর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে জানা গেছে যে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই অন্যতম চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনার বক্তব্য যদি রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তবে তা নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলকে কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শেষ পর্যন্ত, দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ, আইনগত স্বচ্ছতা এবং সব পক্ষের জন্য অংশগ্রহণের পরিবেশ গঠন। শেখ হাসিনার বিবৃতি নির্বাচন প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও জোরালো করেছে; দেশের রাজনৈতিক শিবিরগুলো কিভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে—এটাই এখন পরবর্তী সময়ের বড় প্রশ্ন।

এই সময়ে উৎসাহব্যঞ্জক ও দায়বদ্ধ সংবাদ পরিবেশে পাঠকরা প্রত্যাশা করছেন যে সব পক্ষের বক্তব্য সমানভাবে তুলে ধরা হবে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখন উন্মুক্ত আলোচনা ও অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা একান্ত প্রয়োজনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত