জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে নির্যাতনের অভিযোগে ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে নির্যাতনের অভিযোগে ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকায় জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের একটি অনুদান গ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্থার ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, আর্থিক সহায়তা চাইতে গিয়ে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের হাতে শিকার হয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ মো. জাহাঙ্গীর। তিনি বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে মামলাটি করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, ফাতেমা আফরিন পায়েল, আলিফ, জাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী ও সোনিয়া আক্তার লুবনা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ২৭ মে দুপুরে মো. জাহাঙ্গীর ফাউন্ডেশনের অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যান অনুদানের জন্য। সেখানে আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে মারধর শুরু করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জিআই পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে আসার পরও তাকে নির্যাতন করা হয়। তার ওপর চাপ দেওয়া হয়, যেন তিনি ‘ভুয়া জুলাই যোদ্ধা’ স্বীকার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট এবং ব্যক্তিগত ছবির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিশেষ করে তিনি বিএনপি নেতার সঙ্গে ছবির বিষয়টি কেন তুলেছেন, তা জানতে চান। এরপর তার হাতে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ খানপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে, এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত হামলার বিষয় নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাংগঠনিক দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণও হতে পারে। সমাজ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেশের ইমেজকে নেতিবাচক প্রভাবিত করতে পারে।

কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ফাউন্ডেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যে সংস্থা মানুষের আর্থিক সহায়তা দেয়, সেই সংস্থায় যদি কর্মকর্তারা শিকারকে নির্যাতন করেন, তবে সেটি সংগঠনের সুনাম এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা মনে করছেন, এই মামলাটি বিচারহীন না রেখে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মামলাটি দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা হবে। অপরদিকে, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব মোকাবিলা না করে বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

সর্বশেষ, মামলার তদন্ত ও শাস্তির দিকে দেশের মানবাধিকার সংস্থা ও সাধারণ জনগণ চোখ রাখছে। এ ধরনের ঘটনা একটি সামাজিক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা এই ধরনের অপব্যবহারে জড়িয়ে না পড়ে।

মো. জাহাঙ্গীরের মামলা ও ঘটনার তদন্ত আগামী সময়ের জন্য নজরকাড়া এক মানবাধিকার ও সামাজিক নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে সামনে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত