চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে আহত ৯

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে কলেজ প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে থাকা একটি লেখাকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা শুরু হয়। সেখানে আগে থেকেই “ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস” লেখা ছিল। পরে সেই লেখার একটি অংশ পরিবর্তন করে শব্দ বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা দ্রুত ক্যাম্পাসের ভেতরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ভিডিওটি একজন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতার ব্যক্তিগত আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য চলতে থাকে। এই অনলাইন উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সরাসরি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মঙ্গলবার সকালে থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ধাক্কাধাক্কি এবং এরপর লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হন।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। এক পক্ষ দাবি করে, তারা আলোচনা করতে গেলে প্রতিপক্ষ অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। অন্য পক্ষের দাবি, তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষক ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা সম্ভব হয় বলে প্রশাসন জানায়। তবে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ জানান, ক্যাম্পাসে কিছু সময় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানান, হঠাৎ করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ক্লাস চলাকালীন সময়েই বাইরে থেকে চিৎকার ও দৌড়াদৌড়ির শব্দ শুনে তারা নিরাপদ স্থানে চলে যান। অনেকে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রতিযোগিতা প্রায়ই এমন সংঘর্ষের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও গুজব পরিস্থিতিকে আরও দ্রুত জটিল করে তোলে। ফলে ছোট একটি ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

তারা আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে এখনো সতর্কতা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সংঘটিত এই সংঘর্ষ শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত