প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফুটবল বিশ্বের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার Ian Wright সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এক সোমালি রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি ফুটবল অঙ্গন ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসন, মানবাধিকার এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সোমালিয়ার এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রেফারি নির্ধারিত একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও ভিসা সংক্রান্ত কারণে তিনি দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেননি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট টুর্নামেন্টে তার দায়িত্ব পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়া মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত একজন ম্যাচ কর্মকর্তা কীভাবে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পেয়ে বাদ পড়লেন। সমালোচকদের মতে, এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্যবস্থার ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ইয়ান রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্য বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কোনো কর্মকর্তা বা খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়া হতাশাজনক। তার মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা যা মানুষকে একত্রিত করে, বিভক্ত করে না। তাই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।
রাইটের মন্তব্য দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কাড়ে। অনেক সাবেক খেলোয়াড়, ক্রীড়া বিশ্লেষক এবং ফুটবল সমর্থকও তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনকারী দেশগুলোর উচিত অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য স্বচ্ছ ও সহজ প্রবেশ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির নিরাপত্তা ও ভিসা নীতিমালা অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক বা একাডেমিক কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিবেচনায় নিয়ে থাকে, তবুও সমালোচকরা মনে করেন কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রয়োজন।
ফুটবল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারিদের নির্বাচন করা হয় নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। ফলে কোনো রেফারি যদি প্রশাসনিক কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে তা প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA দীর্ঘদিন ধরেই ক্রীড়াক্ষেত্রে সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং বৈষম্যবিরোধী অবস্থানের কথা বলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো সফল করতে অংশগ্রহণকারী সব দেশের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি এমন সময় সামনে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র বড় বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের অন্যতম আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছে। বিশেষ করে ফুটবল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সামনে থাকায় অভিবাসন ও প্রবেশ নীতির বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ান রাইটের মতো প্রভাবশালী একজন সাবেক ফুটবলারের মন্তব্য শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে সমান সুযোগ ও ন্যায্য আচরণের বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তার বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটবল জগতের অনেকের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক জটিলতার ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভিবাসন আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের আছে।
সব মিলিয়ে, সোমালি রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে উল্লেখযোগ্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছেন ইয়ান রাইট, যার মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।