প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত ফুটবল পুরস্কার ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, ক্লাব মৌসুমে ধারাবাহিক সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে এবারের লড়াইকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর দৌড়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে কে কতটা প্রভাব ফেলেছেন, সেটিই এবার পুরস্কার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ফুটবল বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য শীর্ষ দাবিদারদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ড তারকা রদ্রি, বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের পর এই পাঁচ ফুটবলারের অবস্থান নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কে সেরা হবেন, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্পেন ও ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি। দীর্ঘদিনের ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। স্পেনের মাঝমাঠকে অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণ করে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই মিডফিল্ডার। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার নেতৃত্ব, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও অর্জন করেন। ক্লাব ফুটবলেও উচ্চমানের পারফরম্যান্স বজায় রাখায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে তাকে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে পুরো মৌসুমে ২৪টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। এত অল্প বয়সে এমন পরিপক্ব ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের ফুটবল জাদু দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে পরাজয়ের কারণে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারপরও বিশ্বকাপজুড়ে তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তাকে আলোচনার কেন্দ্রেই রেখেছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে তিনি ৩৬ গোল করেন এবং দলকে লিগ ও কাপ—দুই শিরোপাই জিততে সাহায্য করেন। বিশ্বকাপেও ছয় গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এই স্ট্রাইকার। দলীয় এবং ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই তার সফল মৌসুম ব্যালন ডি’অরের প্রতিযোগিতায় তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধারাবাহিক গোল করে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এমবাপ্পে। তবে দলগত সাফল্যের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে তার পথ তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আকর্ষণ হলো অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার অসাধারণ লড়াই। একদিকে মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলার নিজের ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের মতো তরুণ ফুটবলার ভবিষ্যতের সেরা হওয়ার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই দিয়ে ফেলেছেন। একই সঙ্গে রদ্রির মতো মিডফিল্ডারও দেখিয়ে দিয়েছেন, শুধু গোলদাতারাই নয়, মাঝমাঠের খেলোয়াড়রাও ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বড় দাবিদার হতে পারেন।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এবার ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয় এবং সেই সাফল্যে রদ্রি ও ইয়ামালের অবদান তাদের সম্ভাবনাকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে মেসি, এমবাপ্পে এবং কেইনও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী কে হবেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম। সেই পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে এই পাঁচ তারকার দিকে, যেখানে বিশ্বকাপের নায়ক, ক্লাব ফুটবলের সেরা পারফরমার এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের লড়াই মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত পুরস্কারের প্রতিযোগিতা।