ঋণখেলাপিতে কঠোর সরকার, সমঝোতার সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ঋণখেলাপি সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, যারা ব্যাংকের টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেই অর্থ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কার্যক্রম চলছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ঋণখেলাপি ইস্যুতে প্রশ্ন উত্থাপন করলে তার জবাবে অর্থমন্ত্রী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে দেশের আলোচিত কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির বিষয়টি সামনে আসে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়, এসব অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, সরকার এই বিষয়ে আপসহীন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতকে সুরক্ষিত রাখতে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এসব মামলা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিদেশে অবস্থানরত ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার বিদেশে পেশাদার অর্থ উদ্ধারের প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে, যারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করছে। একই সঙ্গে সরকার থেকে সরকার পর্যায়েও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা যায়।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখতে হলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঋণখেলাপিরা শুধু ব্যাংকের ক্ষতি করছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই কারণে সরকার কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার মতে, অতীতে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলো মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারের এই কঠোর অবস্থান ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণখেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। যদি কার্যকরভাবে ঋণ পুনরুদ্ধার করা যায়, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণখেলাপি সমস্যা সমাধানে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, বরং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং তদারকি জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তারা আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা সময়সাপেক্ষ। তবে সরকার যদি ধারাবাহিকভাবে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়, তাহলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সহায়তা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার সাহস পাবে না।

সব মিলিয়ে, ঋণখেলাপি সমস্যার সমাধানে সরকারের এই কঠোর অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং এর মাধ্যমে কত দ্রুত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই উদ্যোগগুলো কতটা সফল হয়, সেটিই আগামী দিনের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত