প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ববাজারে আবারও নিম্নমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাই মূলত বাজারে প্রভাব ফেলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণ পরিবর্তন করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৯ সেন্ট কমে নেমে এসেছে ৯৪.৭৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ১.৩ শতাংশ কমেছে। এই পতনকে সাম্প্রতিক সময়ের বাজার অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম হঠাৎ করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। সোমবার (২০ এপ্রিল) একদিনেই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।
তবে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা সামনে আসায় বাজারে আবার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, যদি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা সফলভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম মূলত সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদন অঞ্চল হওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ একদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে এখনো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আলোচনা বাস্তব অগ্রগতি পায়, তাহলে আগামী দিনে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতা তৈরি হলে বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
তেলের দামের এই ওঠানামা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরিবহন খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং বিভিন্ন পণ্যের দামে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। ফলে তেলের দামের পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য তেলের দাম কমে আসা সাধারণত স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ এতে আমদানি ব্যয় কিছুটা কমে আসে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পায়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ভবিষ্যতের জ্বালানি নীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়, তাই বাজারে পরবর্তী সময়েও ওঠানামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।